শোয়েব হোসেন :
রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন কাজী অফিসের কাজী আলাউদ্দিনের ভন্ডামি ও লাম্পট্যের দ্বারা অবৈধ পন্থায় অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিবাহ পড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। অপ্রাপ্ত বয়সের মেয়ে বিবি ফাতেমাকে চক্রান্তকারীদের সহযোগে কোর্ট ম্যারেজ করানোর অভিযোগের সূত্র ধরে বিভিন্ন অনুসন্ধান মূলক তথ্য উদঘাটন করা হয়েছে।
জানা গেছে ,বিগত ৪ /৪ /২০২২ ইংরেজি তারিখে উক্ত কাজী তার দক্ষিণখানের প্রেম বাগান সংলগ্ন কাজী অফিসে কিছু চক্রান্তকারীর মাধ্যমে দুইশত টাকার স্ট্যাম্পে কোর্ট ম্যারেজ করান। উক্ত বিবাহের হলফ নামায় নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুর এলাকার বিবি ফাতেমা ও রংপুরের হারাগাছ এলাকার মোঃ অন্তর মিয়া বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। দেনমোহর ধার্য করা হয় ৫০০০০ টাকা ,উসুল নাই।এটি এমন একটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত বিবাহ নামের প্রতারণা যার কোন প্রমাণাদিও উক্ত কাজী অফিসে সংরক্ষিত নেই ।এই অন্তর তার স্ত্রীকে ভরণ পোষণ দেয়া তো দূরের কথা বরং নানান নির্যাতন ও হুমকির মুখে অপরাধমূলক কাজে বাধ্য করে থাকে। বিবি ফাতেমার হাতে,চোখে, মুখে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তরের দেয়া আঘাত ও কাটা দাগের চিহ্ন রয়েছে। এই বিবাহিত দম্পতি সহ বিবাহের সময়ের উপস্থিত সাক্ষীগন তথা কুচক্রী মহলটি ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশনের ফুটপাতের বাসিন্দা।
উক্ত স্থানের আরেক বাসিন্দা ফেলানি গণমাধ্যমকে জানায়, সেই বিয়েতে উপস্থিত ছিল বিবি ফাতেমার শাশুড়ি লাভলী, শশুর হানিফ, সাব্বির ও সোহান (বিমানবন্দর রেল স্টেশনের ঝাড়ুদার)সহ অনেকেই।তাছাড়াও বিমানবন্দর থানা প্রশাসনের সিভিল পুলিশ তোফায়েল সহ অনেকেই নাকি বিবাহের বিষয়ে অবগত আছেন মর্মে জানা যায় ।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিবি ফাতেমার স্বামী ও শাশুড়ির পেশা হলো চুরি ,ছিনতাই ,মাদক সাপ্লাই ও পতিতা র দালালি ।এরা স্থানীয় পুলিশ -নিরাপত্তার কাছে ধরা পড়লেও টাকার বিনিময় ছাড়া পেয়ে যায়। একবার তার শাশুড়িকে ৫০০০ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার ঘটনাও নাকি ঘটেছে। তাছাড়াও উক্ত এলাকার প্রশাসনকে দৈনিক অন্ততঃ দু,একশ টাকা দিলেই এ সমস্ত অপকর্মের বৈধতা দিয়ে দেওয়া হয়।
বিবি ফাতেমা জানায় একবার তার লম্পট স্বামী অন্তর তাকে পতিতালয়ে বিক্রির অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তাছাড়াও এই অন্তর তার দুশ্চরিত্র, নেশাখোর বন্ধুদের ( চান্দু ,মন্ডু ইত্যাদি) সাথে টাকার বিনিময়ে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে লিপ্ত হওয়ার পাঁয়তারাও চালিয়েছিল। এই নেশাখোর বন্ধুরা কেউ কার পার্কিংয়ে ,কেউ পুকুর পাড়ের অবৈধ দোকানের ভিতরে, কেউ ভাঙ্গায় আবার কেউবা মসজিদে ঘুমায়।
এ সমস্ত খবরাদি জানার পর বিবি ফাতেমার বিবাহের দলিলপত্র সহ সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী জনাব কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণমাধ্যম কর্মীগন উক্ত কাজী অফিসে আলাউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে কাজী সরাসরি এই বিয়ে করাননি বলে জানিয়ে দেন এবং এমন কোন দম্পতিকেও তিনি নাকি চেনেন না। তবুও বিবি ফাতেমা জোর গলায় প্রতিবাদী ভাষায় উপস্থিত সকলকে জানান, এই কাজীই বিয়ে পড়িয়ে অস্বীকার করছে। কাজী তখন বেহাল পরিস্থিতি সামাল দিতে বিবি ফাতেমাকে তামাশার পাত্রে পরিণত করে ধমক দিয়ে বেরিয়ে যেতে বলেন এবং ঈশারায় গণমাধ্যম কর্মীদের ম্যানেজ করার অপচেষ্টাও চালান। থতথম খেয়ে কাজী বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে জানান, তিনি এখানে ২০২১ সাল থেকে বসেন। হয়তো আগের অন্য কোন কাজী এমন বিয়ে করিয়েও থাকতে পারে। আগের কাজের নাম আব্দুল্লাহ, যিনি মারাও গেছেন। তিনি আরো বলেন ,কারা কিভাবে এই বিয়ে পড়িয়েছে তা বুঝার কোন উপায় নেই। এমন কাজ কোন কাজী অফিস করায় না ,দালাল ধরেও হতে পারে।
তার এমন সাংঘর্ষিক কথাবার্তা শুনে এবং বিবাহের হলফনামায় বিয়ের তারিখ দেখে সকলের সন্দেহ ক্রমশ কাজীর উপর তীব্র হয়ে ওঠে।
উক্ত বিবাহের হলফনামায় অ্যাডভোকেট মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন,৬-৭ কোট হাউজ স্ট্রিট, জজ কোট, কোতোয়ালি, ঢাকা –১১০০। এই সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে।
পরবর্তীতে আরো অনুসন্ধানের স্বার্থে গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি বিকেলে ছদ্মবেশে উক্ত কাজী আলাউদ্দিনকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকগণ ফোনালাপে গোপনীয়তার সাথে একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে পড়ানোর প্রস্তাব করলে উক্ত কাজী সাবধানতা অবলম্বনে, আইনি ঝামেলা মুক্ত ভাবে, নিরাপদে এবং অবৈধ পন্থায় বিয়ে পড়ানোর আশ্বাসে তার কাজী অফিসে স্বাগত জানান(যার প্রামাণ্য ভয়েস রেকর্ড সংরক্ষিত আছে)। এই বিষয়ে উক্ত মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান,এই ভন্ড কাজী আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।