রাজবাড়ীঃ
রাজবাড়ী সদর উপজেলায় শেখ সুমন সবুজ (৩২) নামের ছাত্রলীগের এক নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আজিজুল ইসলাম ওরফে যুবরাজ
(২১) নামে আরও এক যুবক ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন হোসেন তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
আজিজুল ইসলাম ওরফে যুবরাজের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাউলী জয়পুর গ্রামে। তাঁর বাবার
নাম আলমগীর হোসেন। আজিজুল ইসলামকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। দুপুর দেড়টার দিকে তাকে রাজবাড়ীর এক নম্বর আমলী আদালতের বিচারক সুমন হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে আদালত থেকে বের করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে নিহত শেখ সুমন সবুজ একই ইউনিয়নের উড়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা শামসুল আলম শেখের ছেলে। সবুজ বরাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়
সুমন মারা যান। এর আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হন সবুজ। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সজীব শেখ নামের আরও
একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় নিহত সবুজের বাবা শামসুল আলম শেখ বাদী হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা করেন।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, শেখ সুমন সবুজ হত্যা মামলায় পুলিশ নিরলস ভাবে কাজ
করে যাচ্ছে। আমরা হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করি।
তাদের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে আদালতে পাঠানো হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
আগের দিন বুধবার গোলাম মোস্তফা নামে আরেক আসামী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌধুরী মো. মাহবুবুর রহমানের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গোলাম মোস্তফার বাড়ি বরাট ইউনিয়নের গোপালবাড়ি গ্রামে। পেশায় পল্লী প্রাণি চিকিৎসক মোস্তফা দুই সন্তানের জনক।