সাব্বির হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লাঃ

আধুনিক যুগ ১৬ শতাব্দীর দিকে উদ্ভাবিত হয়। যা বর্তমান সময় কালকে নির্দেশ করে। প্রযুক্তি নির্ভর এই আধুনিক যুগে বই পড়ার অভ্যাস দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা বই পড়ার চেয়ে প্রযুক্তি বেশি ব্যবহার করছে। ৩১ জুলাই ২০১৯ সালে রাজধানীর বাংলামটরে সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর মিডিয়া ইন ডেভেলপমেন্ট (সাকমিড) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে ‘প্রোমোটিং মিডিয়া লিটারেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়।‘প্রোমোটিং মিডিয়া লিটারেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা পর্যায়ে গণমাধ্যম সাক্ষরতা যাচাই বিষয়ে গবেষণার ফলাফল গোলটেবিলে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৮টি বিভাগের ২৪টি জেলার ১৬টি বিদ্যালয় ও ৮টি মাদ্রাসার (৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি) উপর এ জরিপ চালানো হয়, যেখানে অংশগ্রহণ করে ২৪শ শিক্ষার্থী এবং ৪২ জন শিক্ষক ও অভিভাবক। ফলাফলে দেখা যায়, দেশের ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেটসহ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। তাছাড়া জরিপ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬১.৪ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে, যেখানে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর হার ৪৫.৪ শতাংশ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর হার ৬৯.২ শতাংশ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮২.৫ শতাংশ সামাজিক মাধ্যমে সংবাদ পড়ে।শিক্ষার্থীরা বলেছেন, চারপাশে ঘটে যাওয়া খবর ও তথ্য জানতে তাঁরা ফেসবুকে সময় কাটান এবং বন্ধু ও শিক্ষকদের সঙ্গে একাডেমিক তথ্য বিনিময় করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ান। শিক্ষাবিদরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এত কাজকর্ম করার পর স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের হাতে আর বই পড়ার মতো সময় থাকে না। থাকে না ধৈর্য কিংবা মানসিকতাও। যে অবসরে মানুষ বইয়ের পাতা খুলে বসবে, সেই অবসর এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দখলে। একসময় মানুষের উদাস দুপুর কিংবা বিষণ্ন বিকেলগুলো দখল করে থাকত নানান বই—গল্প, উপন্যাস, কবিতা। এখন মানুষের অবসর ঢুকে গেছে ফেসবুকের নীল দুনিয়ায়, টুইটারের, ইনস্টাগ্রাম নামের অনলাইনপল্লিতে। ফলে কমে যাচ্ছে বই পড়ার অভ্যাস।