ব্রেকিং নিউজ কালীগঞ্জে ধর্ষণের মামলায় পলাতক এনসিপি নেতা আটকনাগেশ্বরী সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ, ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবিতেবাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও নাশকতা চায় না-এমপি ফজলুল হক মিলনসিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিচাঁদা দাবি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মামলা, গ্রেপ্তার ৩

শাজাহানপুরে মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রীরা ম্যানেজিং কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদকের কাছে যৌন লালসার শিকার

শাজাহানপুর বগুড়া :

বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার চোপিনগর ইউনিয়নের বৃ-কুষ্টিয়া গ্রামে অবস্থিত বৃ-কুষ্টিয়া দারুল হাদীছ সালাফিয়া তাহফিযুল কুরআন মাদ্রাসার ও ইয়াতীম খানার (বালিকা শাখার) আবাসিক ছাত্রীদের সাথে উক্ত ঘটনা ঘটে।
যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম অত্র মাদ্রাসা সহ-সাধারন সম্পাদক

গত ২ বছর ধরে শরিফুল ইসলামের বাড়ি ভাড়া নিয়ে ছাত্রীদের আবাসিক করেন মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ।

সেখানে ৩৫ জন ছাত্রী আছে, তবে মোট কতজন ছাত্রী যৌন লালসার শিকার হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যৌন হয়রানির শিকার হওয়া শিক্ষার্থীদের বয়স ৬থেকে ১১বছরের মধ্যে এবং বেশির ভাগ ছাত্রী হতদরিদ্র পরিবারের।

আবাসিক শিক্ষকরা বিষয়টি জানলেও শিক্ষার্থীদের রক্ষায় এগিয়ে আসেনি। বরং যৌন নির্যাতনের ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘটনা চাপা দেওয়ার জন্য চেস্টা করে কিছু শিক্ষিকারা পরে সব শিকারোক্তি দিসাবে এই কথা বলছেন শিক্ষার্থীরা।

তবে গত ১১ নভেম্বর একটি শিক্ষার্থীর সাথে যৌন হয়রানির ঘটনা জানাজানি হয়। ঔ ঘটনায় সুষ্ঠ বিচার পেতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পিতা সোমবার (২৭ নভেম্বর) চোপিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান বাবলু বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

ওই পিতা তার অভিযোগে বলেন, ১১ নভেম্বর রাতে আবাসিক শিক্ষক তামান্না আমার মেয়েকে শরিফুল ইসলামের বাসায় কফি আনতে পাঠান। এর কিছু সময় পরে শরিফুল তামান্নার মাধ্যমে আমার মেয়েকে আবারো ডেকে নেন। আমার মেয়ে আবারো গেলে শরীফুল দরজার সিটকী বন্ধ করে আমার মেয়েকে যৌন হয়রানি করেন। আমার মেয়ে সেখান থেকে ফিরে আবাসিক শিক্ষিকা তামান্না এবং মাহমুদা রিয়াকে সব খুলে বলেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, আবাসিক শিক্ষকরা সব শুনেও আমার মেয়েকে শপথ করিয়েছেন যেন, ঘটনা কাউকে না বলে ।

আবাসিকের এক ছাত্রী তাদের সাধারণ শিক্ষিকা ফাতেমা এবং আরবী শিক্ষিকা মাহমুদার কাছে সব ঘটনার বর্ণনা করে জানায়, শরীফুল ইসলাম আমাদেরও যৌন হয়রানি করেছে। এ সময় বেশ কয়েকজন ছাত্রীর নাম উল্লেখ করেন যারা শরীফুল ইসলামের যৌন লালসার শিকার হয়েছেন। ঘটনার পর প্রত্যেক ছাত্রী আবাসিকে ফিরে কান্না করত এবং অপেক্ষাকৃত বড় ছাত্রীদের ঘটনা বলত (বর্ণনার সমস্ত কথা এখানে তুলে ধরা সম্ভব না)।

ছাত্রীরা জানায়, আবাসিকের বড় ছাত্রীদের নিয়ে বাহিরে ঘুরতে যেতো শরীফুল ইসলাম। অনেক টাকাও দিত তাঁদের। এই সমস্ত ঘটনা ছাত্রীরা এসে আবাসিক শিক্ষিকা তামান্না, রিয়া এবং আবাসিকের প্রধান দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকা জয়নব খাতুনকে বলত।

ছাত্রীরা আরো জানায়, আবাসিক শিক্ষকরা সব শুনে ছাত্রীদের ভয় দেখিয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য বলতেন। মা বাবাকে জানালে মাদ্রাসা ভেঙে পড়বে। সবার ক্ষতি হবে বলে ভয় দেখাইতো এবং কাউকে কিছু না বলার জন্য আমাদের শপথ করিয়ে নিত।

শিক্ষক ফাতেমা এবং মাহমুদা বলেন, বিকৃত মস্তিস্কের একটা মানুষ দিনের পর দিন আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রাণি করে আসছে আর কেউ কিছুই বলছে না। বরং এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্থানীয় একটি মহল তৎপরতা চালাচ্ছে।

তাঁরা বলেন, ঘটনার সুষ্ঠ বিচারের জন্য আমরা নির্যাতিত ছাত্রীদের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শুনে তা মোবাইল ফোনে ধারণ করেছি। সেই অপরাধে মাদ্রাসার কমিটি চাকুরি থেকে আমাদের বহিস্কার করেছেন। ন্যায় বিচার পেতে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। যৌন হয়রানির ঘটনায় সরকারের কাছে দৃস্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
জানতে চাইলে আবাসিক শিক্ষিকা তামান্না, মাহমুদা রিয়া এবং আবাসিকের প্রধান দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকা জয়নব খাতুন ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, আমরা কাউকে ভয় দেখাই নাই। যৌন হয়রানির ঘটনা আমাদের কেউ বলে নাই।

শরীফুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ সম্পর্ন মিথ্যা বানোয়াট ।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক বলেন, গত ২বছর ধরে শরীফুল ইসলামের বাড়ি ভাড়া নিয়ে আবাসিক করা হয়েছে। আবাসিক ছাত্রীদের অনেকেই শরীফুল ইসলামের যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। আমরা ৩জন ছাত্রীর সাথে যৌন হয়রানির ঘটনা নিশ্চিত হতে পেরেছি। তবে ধারণা করছি আবাসিকের প্রায় ছাত্রীর সাথেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

শরীফুল ইসলামকে বিকৃত মস্তিস্কের উল্লেখ করে তারা বলেন, এই ঘটনার বিচার হওয়া দরকার। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের অনেকেই শরীফুল ইসলামের কাছের মানুষ। চাকরি হারানোর ভয়ে আমরাও প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছি না।

মাদ্রাসার সুপার মওলানা আব্দুল করীম বলেন, আমার কাছে কোন ছাত্রীর অভিভাবক অভিযোগ দেয় নাই। কোন শিক্ষক আমার কাছে এই ঘটনা বলেনাই। ছাত্রীদের কাছে যৌন হয়রানির ঘটনা শুনে তা মোবাইল ফোনে ধারণ করা এবং মাদ্রাসার না জানিয়ে গ্রামবাসির কাছে প্রকাশ করেছিলেন শিক্ষক ফাতেমা এবং মাহমুদা। সেই অপরাধে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি তাদের বহিস্কার করেছেন।

চোপিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান বাবলু বলেন, শিশুকে যৌন হয়রানির একটি অভিযোগ আমি পেয়েছি। এই অভিযোগের বিচার করার ক্ষমতা আমার নাই। বিষয়টি আমি থানায় অবহিত করেছি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার রেবেকা সুলতানা বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ মত আমরা কাজ করছি।
জানতে চাইলে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদা খানম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লেখক