ব্রেকিং নিউজ কালীগঞ্জে ধর্ষণের মামলায় পলাতক এনসিপি নেতা আটকনাগেশ্বরী সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ, ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবিতেবাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও নাশকতা চায় না-এমপি ফজলুল হক মিলনসিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিচাঁদা দাবি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মামলা, গ্রেপ্তার ৩

শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ

শরীয়তপুর সদরে দাসার্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গবিন্দ চন্দ্র দত্তের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের অভিভাবকগণ এই শিক্ষকের প্রত্যাহার ও চাকুরীচ্যুতের দাবী জানিয়েছেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।এই ঘটনা এলাকায় চাঞ্জল্য ও বেশ কিছু দিন যাবৎ আলোচনা সুস্টি হয় ও মানুষের মুখে মুখে কথা বার্তা।
দশজন নারী অভিভাবক ও তিন জন পুরুষ অভিভাবকের স্বাক্ষরিত একটি দরখাস্তে তারা অভিযোগ করে বলেন, গোবিন্দ দত্ত শিক্ষক একজন ধর্ষক। দীর্ঘদিন যাবৎ সে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করে আসছে।
সম্প্রতি এই বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্রীর সুমাইয়া আক্তর( ছদ্ম নাম)সঙ্গে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হন প্রধান শিক্ষক গবিন্দ চন্দ দত্ত । বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ঐ ছাত্রী মান সম্মানের ভয়ে এলাকা ছেড়ে ঢাকা চলে যায় তার মার কাছে। স্থানীয় একটি কু-চক্রী মহলের ছত্রছায়ার ঐ শিক্ষক একের পর এক কু-কর্ম করে যাচ্ছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন।
এমন অবস্থায় অভিভাবকরা তাদের শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।অভিভাবকগন বলেন শিক্ষক হচ্ছে-ছাত্র – ছাত্রীর কাছে পিতা মাতা মতন,স্কুলের শিক্ষক হল মানুষ তৈয়ারীর কারিগর, শিক্ষকের কাছে যদি ছাত্র – ছাত্রী যদি নির্রাপদ না থাকে তাহলে অভিভাবকেগন কার কাছে আমাদের সন্তান নির্রাপদ থাকিবে, আর সেই শিক্ষক দ্বারা ছাত্রীকে ধর্ষনের মতন ঘটনা ঘটে, তাহলে স্কুলে পুরুষ শিক্ষক না থাকা ভাল, এরকম শিক্ষককে অনতিবিলম্বে চাকুরী কর উক্ত বিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাকে বহিস্কারের ও দাবী তুলেন অভিভাকগন।
উক্ত বিদ্যালয়ের নারী অভিভাবক লামিয়া বেগম (ছদ্ম নাম) বলেন, এই প্রধান শিক্ষকের চরিত্র অত্যান্ত খারাপ। আমরা চাই না এরকম একজন খারাপ চরিত্রের শিক্ষকের কাছে আমাদের ছেলে- মেয়েরা পড়ুক। আমার মেয়েকে এখন বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি, সব সময় ভয়ে থাকি কখন কী ঘটে যায়। আমরা এমন শিক্ষক চাই না।
এছাড়া আরও একাধিক নারী অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, আমরা এই শিক্ষককে চাই না। আমরা একজন সৎ চরিত্রবান শিক্ষক চাই। যিনি ছাত্রীদের নিজের সন্তানের চোখে দেখবেন।
আরেক অভিভাবক মোস্তফা মুন্সি বলেন, গবিন্দ চন্দ দত্ত স্কুলে আসার পর থেকেই বাচ্চাদের ফুঁসলিয়ে কু-কর্ম করে আসছে। আমি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দাবী জানাচ্ছি, এই চরিত্রহীন শিক্ষককে চাকরি থেকে বহিস্কার করা হোক।এক অভিভাক বলেন আমার মেয়ে এই বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী। আমি বাবা হয়ে চাই না এই শিক্ষক এখানে থাকুক।
অভিভাবক মোঃ সেকেন্দার মোল্লা বলেন, গোবিন্দ চন্দ দত্ত ছাত্রীদের সঙ্গে কু-কর্মে লিপ্ত থাকে, এলাকার লোকজন বলেন আমরা শুনতে পাচ্ছি, বিভিন্ন ছাত্রীর মা বা অভিভাব মহিলাদেরকে তিনি কু-প্রস্তাব দেয়। আমার জানামতে উনি অনেক খারাপ লোক। ওনাকে এখান থেকে প্রত্যাহার করা হোক।শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, গবিন্দ চন দত্ত এর আগেও যখন অন্যান্য স্কুলে দায়িত্বে ছিলো তখনও তার বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিলো। তদন্তও হয়েছিলো। কিন্তু একটি শক্তিশালী মহলের তা ধামাচাপা দেয়। এখন আবারও এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একজন ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা আমাকে জানিয়েছে, ঐ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া একটি বাচ্চাকে প্রায় দুই বছর যাবৎ যৌন নির্যাতন করে চলছে। এই বিষয় এলাকায় তুলপাড় সৃস্টি হওয়ার কারনে বিষয়টি লোক মুখে প্রকাশ হওয়ায় বাজে পর্যায়ে পৌঁছেছে। মেয়েটি হতদরিদ্র পরিবারের হওয়ায় এতোদিন মুখ খোলেনি। এখন মেয়েটি সিক্সে উঠেছে, এখন এই ঘটনা প্রকাশ পায় এবং মেয়েটি বলছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নুরুল হাসান বলেন, গবিন্দের ব্যাপারে আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তাকে একবিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না।

লেখক