ব্রেকিং নিউজ কালীগঞ্জে ধর্ষণের মামলায় পলাতক এনসিপি নেতা আটকনাগেশ্বরী সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ, ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবিতেবাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও নাশকতা চায় না-এমপি ফজলুল হক মিলনসিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিচাঁদা দাবি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মামলা, গ্রেপ্তার ৩

দুর্নীতি ভোগান্তির আরেক নাম মোটরযান পরিদর্শক, দালালদের সখ্যতা শরীয়তপুর বিআরটিএ

মোঃ ওবায়েদুর রহমান সাইদ,শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ

দালালের মাধ্যমে ঘুষ নিয়ে সেবা প্রদান করে বিআরটিএ শরীয়তপুর। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ২ মাস ১৩ দিন আগে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক শরীয়তপুরের বিআরটিএ অফিসে অভিযানে পরিচালনা করে। এসময় দুদক একজন দালালকে হাতেনাতে আটকের পর দালালের সঙ্গে মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসানের যোগসূত্রতা সম্পর্কে দুই জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করে। বিষয়টি তদন্তের জন্যও রাখে দুদক। কিন্তু এরপরেও মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসানের ছত্রছায়ায় একটুও কমেনি দালালের দৌরাত্ম্য। এতে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ২ টার দিকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) শরীয়তপুর অফিসে গিয়ে মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসানের ছত্রছায়ায় দালালের এমন দৌরাত্ম্য দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক মাদারীপুরের সমন্বিত জেলা কার্যালয় বিআরটিএ শরীয়তপুর অফিসে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় দুদকের কাছে গোসাইরহাটের কাওসার হাওলাদার নামে এক গ্রাহক অভিযোগ করে ওবায়দুল নামে এক ব্যক্তি বিআরটিএ অফিসের স্টাফ পরিচয় দিয়ে তার থেকে ৭ হাজার টাকা নিয়েছে। এরপর দুদক ওই দালালকে আটক করে। এসময় ওই দালাল জানায় বিআরটিএ শরীয়তপুরের মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসানের সঙ্গে দালালদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। পরে দুদক তাদের দুই জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটককৃত দালাল ওবায়দুলকে ছেড়ে দেয়।
এরপর ওবায়দুল বিআরটিএ শরীয়তপুরের কর্মকর্তারা কীভাবে দালালদের মাধ্যমে সেবা গ্রহীতাদের থেকে ঘুষ নিয়ে ভাগাভাগি করে তার স্বীকারোক্তি দেয় গণমাধ্যমে। এই ঘটনার তিন মাস পার হওয়ার আগেই মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসানের ছত্রছায়ায় বিআরটিএ অফিসে আবারও দালালদের দৌরাত্ম্যে হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিআরটিএ অফিসের বারান্দায় দেখা যায় এক গ্রাহক ও দালাল নজরুল একটি মটরসাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখানে উপস্থিত হোন মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান। এরপর গ্রাহক, দালাল নজরুল ও মেহেদী হাসান অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে। গণমাধ্যম কর্মীরা অফিসের ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায় দালাল নজরুল অফিসের স্টোর রুমে ঢুকে বিভিন্ন নথিপত্র ঘেটে দেখছেন। এসময় ওই গ্রাহককে মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসানের সঙ্গে তার কক্ষে দেখা যায়। গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে এসময় দালাল নজরুল অফিসের বাইরে চলে যায়।মারুফ পারভেজ সাইম নামে এক গ্রাহক বলেন, নজরুল ভাইকে তো আমরা অফিসের স্টাফ হিসেবে চিনতাম, উনি যে দালাল তা জানা ছিল না আমার। বিআরটিএ লাইসেন্স দিবে আর ঘুষ দিতে হবে না, এটা কল্পনাও করা যায় না। এক দালাল ধরা খেলে আরেক দালাল আসে। লাইসেন্সের জন্য আসছিলাম, কিন্তু দালালরা যে টাকা চায় ১২৫০০ আমার কাছে, সেই টাকা নেই আমার। এখন বৈধ পথে ঘুরে দেখি কী হয়।আপনার কাছে নজরুল কেন এসেছে এমন প্রশ্নের উত্তরে বিআরটিএ শরীয়তপুরের মাটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান বলেন, নজরুল গ্রাহক হিসেবে এসেছেন। কোনো গ্রাহক অফিসের স্টোর রুমে ঢুকতে পারেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোনো জবাব না দিয়ে চুপ থাকেন। আপনার সামনে বসা গ্রাহক, নজরুল দালাল ও আপনি এক সঙ্গে অফিসের বারান্দা থেকে ভেতরে প্রবেশ করলেন। বিষয়টি আসলে কী, এমন প্রশ্নের উত্তরেও তিনি চুপ থাকেন। এসময় তিনি জানান, এসব বিষয় নিয়ে আপনি অফিস প্রধানের সঙ্গে কথা বলুন, অফিস প্রধান অফিসে উপস্থিত নেই জানালে তিনি বলেন, অপেক্ষা করুন। তিনি যেদিন আসবেন, সেদিন কথা বলিয়েন। এরপর গণমাধ্যকর্মীরা অফিস প্রধানের মোবাইল নাম্বার চাইলে মেহেদী হাসান জানান, আমার কাছে নেই, ওয়েব সাইটে দেখে নিন।বিষয়টি নিয়ে বিআরটিএ শরীয়তপুরের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত) মো. নুরুল হোসেন বলেন, দুদকের বিষয়টি নিয়ে অফিশিয়ালি মেহেদী হাসান কী জবাব দিয়েছেন, সেটা এখনও আমি জানি না। শরীয়তপুর অফিসে আমি সপ্তাহে দুই দিন যাই। শরীয়তপুর অফিসকে আমি পুরোপুরি ভাবে দালাল মুক্ত করেছি। আমার অনুপস্থিতিতে অফিসে কোনো দালাল অফিসে ঢুকেন কি না সেটা আমার জানা নেই। আমার অনুপস্থিতিতে মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান দায়িত্বে থাকেন। তারই বিষয়টি বিষয়টি দেখভাল করার কথা এখন তিনি যদি দায়িত্বে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন, তাহলে আমার কিছু করার নেই।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন শরীয়তপুরের সভাপতি রাশিদুল হাসান মাসুম বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক কমীসহ সকলেরই সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। শরীয়তপুর বিআরটিএ অফিসে দালালের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। ঘুষ লেনদেনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দুদক ও সরকার আরও কঠোর হলে সাধারণ মানুষ বৈধ পথে লাইসেন্স কাগজ করতে পারবে বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় মাদারীপুরের উপ-পরিচালক আতিকুর রহমান বলেন, এর আগে অভিযানের সময় শরীয়তপুরের মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসানের সঙ্গে দালালের সম্পৃক্ততা পেয়ে তাকে সর্তক করা হয়েছিল। দালাল সম্পৃক্ততার কারণে মেহেদী হাসানকে অন্যত্র বদলীর সুপারিশ করেছিল দুদক। কিন্তু এরপরেও যদি তার বিরুদ্ধে আবারও দালাল সম্পৃক্তার অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে আবারও অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লেখক