বিশেষ প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীর কালুখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আবদুল হামিদ খানের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ চুরি ও বিক্রির চেষ্টা এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাতে ‘দুর্বৃত্তরা গাছ কেটেছে’—এমন উল্লেখ করে থানায় জিডি করার অভিযোগ উঠেছে।
৯ নভেম্বর রবিবার কলেজের নিজস্ব প্যাডে কা.স.ক/২০২৫/৬৩৮/(১) স্মারকে কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি)কে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
সরেজমিনে জানা যায়, ৮ নভেম্বর শনিবার সকাল থেকে পরদিন ৯ নভেম্বর রবিবার দুপুর ১১টা পর্যন্ত কলেজ চত্বরে পাঁচটি গাছের মধ্যে চারটি কাটা হয়। শনিবার বিকেলে স্থানীয় সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে গাছ কাটার কাজ সাময়িক বন্ধ করা হয়। কিন্তু পরদিন রবিবার আবার কাটা হয়, কাটা দুটি ছোট গাছ ফেলে রেখে এবং দুটি মোটা গাছ দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।
বাকঝাপার শ্রমিক মনিরুল বলেন, ব্যাপারি বলছে প্রিন্সিপাল গাছ বিক্রি করেছে। আমরা চারজন কেটেছি। শনিবার আর রবিবার দুপুর পর্যন্ত কাটছি।
মোরারিখোলার রাকিব শেখ বলেন, শনিবার সকাল ৯টা থেকে রবিবার ১১টা পর্যন্ত কাটছিলাম। সাংবাদিক আসলে প্রিন্সিপাল বলছে, তোমরা চলে যাও।
তিনি আরও জানান, ২৪ হাজার টাকা মূল্যে গাছ বিক্রি করা হয়েছে।
ব্যাপারি ফজলু মোল্লা জানান, প্রিন্সিপাল ও কন্টাকটার বিক্রি করেছে।
গাছের ক্রেতা ফজলু মোল্লা জানান, প্রিন্সিপাল আর কন্টাকটার আমার কাছে গাছ বেঁচছে। ২৪ হাজার টাকায় নিষ্পত্তি হয়। শনিবার টাকা কলেজ পিয়ন গাফফারের কাছে দিয়ে আসছি। পরে গাছ কাটা আরম্ভ করি।
ফজলু আরও বলেন, থানায় দেওয়া অভিযোগে রাতের আধারে গাছ কাটা হয়েছে, এই তথ্য ভুল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাতে গাছ কাটা যায়? আমরা দিনে কাটছি। প্রিন্সিপালই বলছে—কয়দিন পরে নিয়া যাইও। আবার বলছে, শুক্রবার টাকা দিয়ে দিমু।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এর আগেও তিনি গোপনে গাছ বিক্রি করেছেন। জানাজানি হলে দায় এড়াতে থানায় জিডি করে ধামাচাপা দেন। সরকার পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয় আর প্রিন্সিপাল পরিবেশের বিপর্যয়ের জন্য গাছ নিধনযোগ্য চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে কালুখালী থানায় গিয়ে ওসির নিকট জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, না না, এরকম কোনো অভিযোগ হয় নাই। কোনো জিডিও হয়নি। তবে রাত ৮টার দিকে ফোনে আপডেট জানতে চাইলে বলেন , আমি একটি সাক্ষী দেওয়ার জন্য স্টেশন লিভে ছিলাম। এসে জানতে পারি, থানাকে পত্র মারফত জানানো হয়েছে। আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহুয়া আফরোজ ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে অপারগতা জানালেও বলেন, আমি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী এজাজ কায়ছারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানিয়েছেন—গাছ দিনের বেলাতেই কাটা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল হামিদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি শুধুমাত্র থানায় পাঠানো চিঠির অনুলিপি দেন। অভিযোগ সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন আমি কোন ভিডিও সাক্ষাৎকার বা কোন বক্তব্য দিতে চাই না।