মেনহাজুল ইসলাম তারেক, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি :
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) বহুল প্রতিক্ষীত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। উত্তরের জনপদ দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে উৎসবের আমেজ।
চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—সবখানেই এখন একটাই প্রশ্ন: কার গলায় উঠছে জয়ের মালা? পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলার ভোটাররা এখন তাদের আগামীর কাঙ্খিত অভিভাবক বেছে নিতে প্রস্তুত। এবারের নির্বাচনে সাতজন যোগ্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন, যা এই আসনটিকে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক উৎসবের কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
এক নজরে সাত প্রার্থীর লড়াই:
নির্বাচনী ময়দানে যারা নিজেদের যোগ্যতা ও স্বপ্নের ডালি নিয়ে হাজির হয়েছেন তারা হলেন:
ব্যারিস্টার একেএম কামরুজ্জামান – ধানের শীষ । আইনি প্রজ্ঞা ও তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে আলোচনায়।
ডাঃ মোঃ আব্দুল আহাদ – শাপলা কলি। সেবামূলক মানসিকতা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি।
এজেডএম রেজওয়ানুল হক – তালা। অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও স্থানীয় উন্নয়নে সুপরিচিত মুখ।
এ্যাডভোকেট হযরত আলী বেলাল – হরিণ। ন্যায় বিচার ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে পরিচিত ব্যক্তিত্ব।
মোঃ জাকারিয়া বাচ্চু – কলস। তৃণমূলের মানুষের সাথে নিবিড় সংযোগ।
মোঃ কাজী আব্দুল গফুর – লাঙ্গল। লাঙ্গল প্রতীকের ঐতিহ্য ও উন্নয়নের ধারক।
মোঃ রুস্তম আলী – মোটর সাইকেল। গতিশীল পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাণের স্পন্দন ফেসবুক এবং ইউটিউবে এখন প্রার্থীদের পোস্টার ও ভিডিও বার্তার ছড়াছড়ি। তবে ডিজিটাল এই প্রচারণার সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো—ভোটের মাঠ এখন আর কেবল পেশি শক্তির নয় বরং মেধা ও যুক্তির লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। তরুণ ভোটাররা প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যতের ইশতেহার নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন।
পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দাবি একটাই—যিনিই নির্বাচিত হোন না কেন, তিনি যেন এলাকার উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং বেকার সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। ভোটারদের চোখে-মুখে এখন নতুন দিনের স্বপ্ন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেওয়ার আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
দিনাজপুর-৫ আসনের এই সাতজন প্রার্থীর প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থানে জনপ্রিয়। তবে চূড়ান্ত রায় দিবেন সাধারণ মানুষ। আজকের দিনটি কেবল একটি নির্বাচন নয় বরং পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীর মানুষের ঐক্য ও আস্থার পরীক্ষা। এখন কেবল ফলাফলের অপেক্ষা। আজ সন্ধ্যায় কার হাতে উঠবে এই গুরুত্বপূর্ণ আসনের চাবিকার্ঠি?