ব্রেকিং নিউজ পল্লী বিদ্যুতের বিলে পুরোনো বকেয়ার ছড়াছড়ি; সফটওয়্যার ত্রুটির অভিযোগে বিপাকে হাজারো গ্রাহকবিশ্ব বাবা দিবসে বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সাংবাদিক শ্রাবণ মাহমুদের আবেগঘন নিবেদনে কবিতা ‘বাবা’ আড়াই বছরের শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা; অভিযুক্ত কিশোরীর থানায় আত্মসমর্পণরাঙ্গামাটি কর্ণফুলী নদী থেকে নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধারকাঁচা বাঁশ দিয়ে জাম পারতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষকের মৃত্যু

গাইবান্ধায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী ‘ফেয়ার প্রাইস কার্ড’ নবায়নের নামে, টাকা আদায়ের অভিযোগ

বিপুল ইসলাম আকাশ,সুন্দরগঞ্জ(গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড নবায়ন করার জন্য কার্ড প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (১৪আগষ্ট) দুপুরবেলা সরেজমিনে গেলে বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে অর্ধশতাধিক কার্ডধারী ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন,সরকার হামাক ১০টাকা কেজির চাউল দেয় সেই কার্ড নবায়নের জন্য গেলে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের কম্পিউটার অপারেটর জন প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা দাবি করেন।।এতে অনেক ভুক্তভোগীরা টাকা দিতে রাজি না হলে তাদের কার্ড বাতিল করার কথাও বলেন।

সাতগিরি এলাকার ভুক্তভোগী আঃ ছাত্তার বলেন,আগের চেয়ারম্যান হামার ফ্রি কার্ড করি দিছে। সেটাই হামরা এতবছর ধরি খাইনো। এখন নয়া চেয়ারম্যান আসি নবায়ন করা নাগবে জন্য কারো কাছে ২০ টাকা কারো কাছে ৫০টাকা করি চায়। হামরা গরীব মানুষ সরকার হামাক ১০টাকা কেজির চাল দিছে সেটা নবায়ন করবার আসিয়া একদিনের কামলা (দিনমজুর)কামাই করনো।বাড়ি থাকিয়া হাটি(হেটে)আসনো এটে আসি শুনি এমাক (এদের)২০টেকা(টাকা)দেওয়া নাগে(লাগে)।এই ২০ টেকা (টাকা)কোটে পাই টেকা(টাকা) থাকলে তো ভ্যানত আসলাম হয়।

এছাড়াও কার্ড নবায়ন করতে আসা শাহজাহান বলেন, চাউলের কার্ড নবায়নের জন্য তিনদিন পরিষদে আসলাম।একটা কার্ড নবায়নে এত ঘোরাঘুরি কেন আজকে আবার কম্পিউটার অপারেটর বলতেছে ডিলারের সাথে যোগাযোগ করতে। দিনমজুরি কাজ বাদ দিয়া কার্ড নবায়ন করার জন্য তিনদিন হলো পরিষদে আসি।এমন জনহয়রানির অভিযোগ নবায়ন করতে আসা প্রায় প্রতিটি লোকের।

ষাটোর্ধ মর্জিনা বেগম বলেন, ‘নজমুল চেয়ারম্যান চাউলের কার্ড আগোত হামাক ফ্রি করি দিছিলো। জব্বার চেয়ারম্যান আসি ২০টাকা করি চায়।কিসের অনলাইন করা লাগে আবার তার জন্য টাকা দেওয়া লাগে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন,১০টাকা কেজির চালের কার্ড নবায়ন করার জন্য কম্পিউটার অপারেটর কাছে গেলে টাকা ছাড়া কোন কাজ করেনা টাকা দিলে কাজ করে দেয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার মিয়ার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন,কার্ডগুলো ডিজিটাল করা হচ্ছে। আর এ কাজে কোনো টাকা পয়সা লাগবে না বিষয়টি বলা আছে আমাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে। এরপরও কেউ টাকা নিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি প্রকল্পের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-মারুফ বলেন, কার্ড নবায়নে কোনো টাকা আদায় করা যাবে না। বিষয়টি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কে খতিয়ে দেখার জন্য বলেছি।ঘটনার সত্যতা পেলে তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে হতদরিদ্র মানুষের খাদ্য বান্ধব কর্মসুচীর (ফেয়ারপ্রাইজ) আওতায় আনার জন্য ১০ টাকা কেজি দরে পরিবার প্রতি ৩০ কেজি চাল বিক্রি শুরু করেন সরকার। ওই কর্মসুচীর আওতায় উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে ২হাজার ১শত ১৬ জন উপকার ভোগী চিহিৃত করা হয়।

লেখক