ব্রেকিং নিউজ রংপুরে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিকাশে SHE Leads প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিতপার্বতীপুরে ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধনটাইগারপাসে উত্তেজনার পর গ্রাফিতি আঁকায় নিজেই নামলেন চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেনমনোহরদীতে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনকয়রায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠিত

কয়রায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠিত

বি এম আলামিন ইসলাম
কয়রা প্রতিনিধিঃ

 খুলনার কয়রায় কৃষি, মৎস্য ও সমবায় খাতের সমন্বিত উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস -২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা ১১টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কয়রা উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (এমপি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তিলোক কুমার ঘোষ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার এবং উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে কৃষি, মৎস্য ও সমবায় খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে পারলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলে কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থারও উন্নয়ন ঘটবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তিলোক কুমার ঘোষ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “কৃষি শুধু দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিই নয়, এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ, সঠিক সেচ ব্যবস্থা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।” উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “কৃষি এবং সমবায়ের মধ্যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে। সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকদের সংগঠিত করা গেলে উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং আর্থিক সক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।” উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার বলেন, “কয়রা উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় এখানে কৃষির পাশাপাশি মৎস্য খাতেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান আরও উন্নত করা সম্ভব।” সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, “কৃষি, মৎস্য ও সমবায় বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। এজন্য সকল বিভাগকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।” প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষি ও মৎস্য খাত দেশের অর্থনীতির প্রাণ। কৃষকদের সুবিধার্থে এলাকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিঠা পানির খাল অবমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “পর্যাপ্ত মিঠা পানির অভাবে অনেক কৃষক তাদের আবাদি জমি পতিত অবস্থায় রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। খালগুলো পুনরায় সচল করা গেলে কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবে এবং কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।” অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, কৃষক-কৃষাণী, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

লেখক