ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে নতুন করে আরও ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে এসে পৌঁছেছে।
সোমবার চালানটি ডিপোর রিসিভিং টার্মিনালে গ্রহণ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমন চাষের ব্যস্ত মৌসুমে এ চালান উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ আরও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সহায়ক হবে।
যার ফলস্বরূপ আমন মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহে বাড়ছে স্বস্তি
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। পাইপলাইন চালু হওয়ার পর জ্বালানি পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমেছে, একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থাও হয়েছে আরও নিরাপদ ও কার্যকর।
২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, চলতি বছরে ভারত থেকে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ চালানসহ এ পর্যন্ত প্রায় ৭৯ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছেছে।
পার্বতীপুর ডিপো থেকে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির মাধ্যমে ট্যাংকলরিযোগে রংপুর বিভাগসহ উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলায় ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সেচ কার্যক্রম, কৃষি উৎপাদন এবং পরিবহন খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চলতি বছরে ভারত থেকে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান বলেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত ডিজেল সরবরাহের কারণে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানির সংকটের শঙ্কা অনেকটাই কমেছে। এতে পরিবহন ব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি ট্যাংকলরি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে।
দিনাজপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল বলেন, কৃষিনির্ভর উত্তরাঞ্চলে সময়মতো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে কৃষকরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।
ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন প্রকল্প আঞ্চলিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব রেখে চলেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন প্রকল্প উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি কৃষি, পরিবহন ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব রেখে চলেছে।