দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকায় ‘রাতের ভরসা কুপি-হারিকেন, বর্ষায় কলাগাছের ভেলা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে উঠে আসে বৃদ্ধ কাশেম আলীর অসহায় জীবনযাপনের চিত্র। ৯৩ বছরের কাশেম আলী শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সারিকালীনগর নামাপাড়ার বাসিন্দা। সংবাদটি নজরে এসেছে জেলা প্রশাসকের।
সংবাদটি পড়ে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন ডিসি ফরিদা ইয়াসমিন। প্রতিবেদনে উঠে আসে- স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাশেম আলীর ঘরে পৌঁছায়নি বিদ্যুতের আলো। রাত কাটে কুপি-হারিকেনের ক্ষীণ আলোয়। বর্ষাকালে পানিতে ডুবে যায় বসতভিটা ও চলাচলের পথ। তখন কলাগাছের ভেলায় চড়ে চলাচল করতে হয় তাকে। পাশাপাশি রাস্তা, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত তার পরিবার।
এখনো বিদ্যুতের আলো পৌঁছায়নি কাশেম আলীর ঘরে- আগামীর সময়সংবাদটি ডিসির নজরে আসার পর কাশেম আলীর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি। তার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশনাও দেন। এ বিষয়ে ডিসি ফরিদা ইয়াসমিন বললেন, ‘আগামীর সময় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি আমার নজরে আসে। একজন বৃদ্ধ জীবনের শেষ সময়ে এসে যদি এখনো এমন মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকেন, বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টদায়ক। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কাশেম আলীর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেছেন, ‘এরই মধ্যে তাকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। তার জন্য খাস জমির ব্যবস্থা, বসতঘর নির্মাণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। বিদ্যুৎ সংযোগ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে। প্রশাসনের দায়িত্ব হলো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা।