সরাষ্ট্রমন্ত্রালয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার নির্দেশনা ও সিদ্ধান্তেই এই মন্ত্রনালয় চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরাষ্টমন্ত্রী পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। আর তার ব্যর্থতার দায় চলে আসছে পুলিশের উপর।
বুধবার দুপুরে রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহবায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে এত মাদকের স্পট নিধারিত হলো সেগুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ একটি মাফিয়া স্টেজে পরিনত হয়েছে। একদিকে সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র, অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রীদের হাতেও অস্ত্র। কোন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দ্বারা আজ সন্ত্রাস নির্মূল করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমরা দেখতে চেয়েছিলাম একটি নিরপেক্ষ শক্তিশালী অবস্থা। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম আইজিপি ক্রোস ফায়ারের কথা বলছেন। একটি শক্তিশালী বাহিনী মানে ক্রোস ফায়ার দেওয়া বা আইনবহির্ভূত কোন কাজ করা না। এই বক্তব্যকে ঘিরে সারা দেশে আজ সমালোচনার শুরু হয়েছে। এই বক্তব্যের জন্য আইজিপির ভুল স্বীকার করা উচিত। ক্ষমা চাওয়া উচিত। কিন্তু পুলিশ তার বক্তব্যের পক্ষে সাপাই গাইছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সারা দেশে সরকারি লোকজনের ছত্রছায়ায় যে সন্ত্রাস বাহিনী গড়ে উঠছে, যে ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে তাদেরকে কিভাবে নির্ভয়ে গ্রেপ্তার করা যায়, সরকারের পক্ষ থেকে যাতে তাদের উপর কোন চাপ প্রয়োগ না করা হয়, সরকারি দলের লোকজনকে আটক করলে কোন পুলিশের যাতে চাকরি হারানো বা ডিমোশন না দেওয়া হয় এই বিষয়গুলো সরকারের কাছে বলা। এই বিষয়গুলো আমরা পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু সেটা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরকার একচাটিয়া দলীয় প্রভাব বিস্তার করছে। সকল প্রকার সরকারি নিয়োগে দলীয় লোকজনকে বসাচ্ছে। বর্তমানে যাকে তথ্য কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে তিনি নিজেই সবচেয়ে বেশি অপতথ্য ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষ আজ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। সকল ধরণের জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুন। একজন পোশাক শ্রমিকের সর্বোচ্চ বেতন সাড়ে ১২ হাজার। তারা আজ দুর্বিঃসহ জীবনযাপন করছেন। এদিকে সরকার পে স্কেল ঘোষনার মাধ্যমে গুটি কয়েক মানুষকেই সুবিধা দিচ্ছে। অন্য পেশার মানুষের অবস্থা আরও খারাপ হবে। একটি গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা এই ধরণের পরিস্থিতি আশা করি নাই।
এসময় এনসিপির সিনিয়র যগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহবায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব, সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা দক্ষিণ) আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন,সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান অপু সাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সাইয়েদ জামিলসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।