রাজবাড়ীঃ
রাজবাড়ীতে শুক্রবার বিকেলে শিখো-প্রথম আলোর জিপিএ- ৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক।
অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল ফ্রেস, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা। দুপুর ২টা থেকে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বরে ২টা বাজার আগেই শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় উপজেলা পরিষদ চত্বর।
জেলার কালুখালী উপজেলার মাঝবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অনুষ্ঠানে এক সঙ্গে এসেছে পাঁচবন্ধু। পরীক্ষার পর থেকে তাদের অনেক দিন দেখা হয়না। প্রথম আলোর অনুষ্ঠানে সবাই একত্রিত হতে পেরে খুব খুশি তারা।
বিকেল সোয়া ৩টায় জাতীয় সংগীতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বন্ধুসভার বন্ধুরা জাতীয় সংগীত পরিবেশণ করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলো’র রাজবাড়ী প্রতিনিধি এজাজ আহম্মেদ। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন নাহার চৌধুরী, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক, রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক তালুকদার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানের সমাপনী ঘোষণা করেন বন্ধুসভার সভাপতি ও রাজবাড়ী সরকারি কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমান। কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেয় মুশাররাত জাহান, জুবায়ের হাসান। অনুষ্ঠানে মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. পূর্নিমা দত্ত, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফকীর শাহাদাত হোসেন, প্রথম আলো গোয়ালন্দ উপজেলা প্রতিনিধি এম রাশেদুল হক প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
সংগীত পরিবেশন করেন অমিতা চক্রবর্তী, অপর্না রায়, দীপক কুমার, কুইন। নৃত্য পরিবেশন করেন বন্ধুসভার দপ্তর সম্পাদক অদ্রিজা চক্রবর্তী ও অন্তি। কবিতা আবৃত্তি করেন ফাহমিদা সুলতানা। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন প্রদ্যুত কুমার দাস ও কেয়া প্রামানিক।
‘কৃতী শিক্ষার্থী মুশাররাত জাহান বলে, আমি নানী বাড়িতে মানুষ হয়েছি। মা-বাবার মধ্যে ডির্ভোস হয়ে যাওয়ার কারণে আমি নানী বাড়ি থাকতাম। আমাকে সবসময় আমার নানী গাইড করেছে। আমি নানীর কাছে ঋণী। তাঁর কারনেই আমার এই ভালো ফলাফল। প্রথম আলোর মাধ্যমে এই কথা বলার সুযোগ পেলাম।
কৃতী শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন জানায়, পরীক্ষা দেওয়ার পর থেকে আমরা ঢাকা চলে গিয়েছে। আর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়না। এই অনুষ্ঠানে আমরা সবাই একসঙ্গে এসেছি। সবাই একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছি। গান শুনছি। কবিতা শুনছি। আনিসুল হক স্যারের কথা শুনবো। প্রথম আলোকে ধন্যবাদ আমাদের সবাইকে এক করার জন্য। চেনা অচেনা অনেক সহপাঠী এসেছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলার তালপট্টি থেকে আসা জুবায়ের আহমাদ বলে, আমি কৃষকের সন্তান। আমার পরিবার আর্থিক ভাবে অস্বচ্ছল। কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে আমি গর্বিত। আমি আবারও ভালো রেজাল্ট করবো।
জেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন নাহার চৌধুরী বলেন, এটি খুব ভালো উদ্যোগ। এতে শিক্ষার্থীরা আরও উৎসাহিত হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ বেড়ে যাবে। এ ধরণের অনুষ্ঠান বেশি বেশি করতে হবে।
আনিসুল হক শিক্ষার্থীদের তিন ম। ম তে মাদক, মিথ্যা ও মুখস্ত বলার বিরুদ্ধে শপথ করান। ‘সবার আমি ছাত্র’ কবিতাটি সবার সঙ্গে আবৃত্তি করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা হাত তুলে শপথ করেন। তিনি বলেন, এবার যারা জিপিএ ৫ পেয়েছে তাদের আগামিতেও জিপিএ ৫ পেতে হবে। তবে যারা জিপিএ ৫ পায়নি তাদের হতাশ হলে চলবে না। বঙ্গবন্ধু জিপিএ ৫ পায়নি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বিল গেটস কেউ জিপিএ ৫ পায়নি। কিন্তু এরা প্রত্যেকেই ব্যক্তিজীবনে সফল হয়েছেন। আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করলে আমরা সফল হতে পারবো।
তিনি বলেন, রাজবাড়ীর ছেলেমেয়েরা দেশের মধ্যে সেরা। আমাদের দেশের অনেক সফল মানুষ গ্রাম থেকে এসেছে। আকাশের দিকে তাকালে উদার হতে পারবে। বাতাসের দিকে তাকিয়ে কর্মী হওয়ার মন্ত্র নিতে হবে। পাহারের দিকে তাকালে মৌন হতে পারবে। সাগরের দিকে তাকিয়ে বড় হৃদয়ের হতে হবে।