রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা থেকে সাত কেজি ৩০০ গ্রাম সোনার বার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এঘটনায় এক ইউপি সদস্য সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হলরুমে প্রেসবিফ্রিংয়ের মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন, পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের হাজরাপাড়া গ্রামের সাত্তার শেখ (৩৩)। তাঁর বাবার নাম শুকুর আলী শেখ। পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের বনগ্রামের নাহিদুল ইসলাম (১৯)। নাহিদুলের বাবার নাম আবদুল খালেক বিশ্বাস। অপরজন কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের উসমানপুর গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম। তাঁর বাবার নাম আয়েন উদ্দিন (৩৮)। জহুরুল উসমানপুর ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য।
প্রেসব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পাংশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রাতের নিয়মিত চেকপোস্ট অভিযান শেষ করে থানায় ফিরছিল। পুলিশের দলটি বাবুপাড়া ইউনিয়নের পাংশা-চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা হালিম বিশ্বাসের বাড়ির কাছে পৌছালে একটি মোটর সাইকেলে দুইজন যুবক দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে পুলিশের সন্দেহ হয়। পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। তাঁরা মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের আটক করে। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে সাত্তার জানায় দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে তিনটি সোনার বার ফেলে দিয়েছে। এসময় স্থানীয় জনগণ ও ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফার উপস্থিতিতে তিনটি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। এরপর নাহিদুলের জুতার ভেতর থেকে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো সাতটি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। সবমিলিয়ে নয়টি অখন্ড সোনার বার ও ছয়টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রেসব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ সালাউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অপস) রেজাউল করিম, সহকারী পুলিশসুপার (সদও সার্কেল) ইফতেখারুজ্জামান, পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, দুইজনকে আটকের পর তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করছিলেন জহুরুল ইসলাম। একপর্যায়ে তিনি সেখানে উপস্থিত হন। তাকে আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এই ঘটনার সঙ্গে নিজেকে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আরও বলেন মোটরসাইকেলে থাকা নাহিদুলকে তল্লাশি করে, মোটরসাইকেলের ছিটকভার তল্লাশি করেও পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপরে তার জুতা ভালো করে তল্লাশি করে বিশেষ কায়দায় আটকানো পাওয়া যায়।