মোঃ ওবায়দুল রহমান সাইদ, শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ফতেজঙ্গপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী হাওলাদার, আমির হাওলাদার, সিয়াম হাওলাদর এবং শিখা বেগমের বিরুদ্ধে নাজমা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের দায়ে নাজমা বেগমের স্বামী মোহাম্মদ আলী হাওলাদার এবং তার ভাই আমির হাওলাদারের স্ত্রী শিখা বেগমকে গ্রেফতার করেছে নড়িয়া থানার পুলিশ।
এদিকে নাজমার স্বজনদের দাবী নাজমাকে হত্যা করা হয়েছে। আর মোহাম্মদ আলী হাওলাদার বলছে তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। স্থানীয়রা বলছে, ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই বুঝা যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা?
আপরদিকে সিয়ামের পরিবার পুলিশের সাথে তালমিল করে এই হত্যাকান্ডটিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করছে নাজমার স্বজনরা। কিন্তু পুলিশ একটু দায়িত্বশীল হলেই আসল সত্যটা বেড়িয়ে আসবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ জনেরা।
গত ১৮ মে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে ফতেজঙ্গপুর গ্রামে স্বামী মোহাম্মদ আলী হাওলাদারের বাড়ীতে এই হত্যার ঘটনা ঘটে।
আর এ হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আমির হাওলাদার এবং সিয়াম হাওলাদার পলাতক রয়েছে।
নাজমা বেগম নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের উপসী গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল মান্নান শেখের মেয়ে। নাজমা চার সন্তানের জননী বলে জানা গেছে।স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, জমি বিক্রয় করা দশ লক্ষ টাকা ও ভাসুরের ছেলে সিয়াম হাওলাদারের সাথে মেয়ে লামিয়া আক্তারের বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনাই নাজমার মৃত্যুর কারণ।
নিহতের মা হালিমা বেগম বলেন, বৈবাহিক জীবনে নাজমার দুই বিয়ে হয়েছিল। প্রথম পক্ষের মেয়ে লামিয়া আক্তার। দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী মোহাম্মদ আলী হাওলাদারের ভাতিজা সিয়াম হাওলাদারের সাথে লামিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের কারণে এক বছর পূর্বে তাদের বিয়ে হয়। সিয়াম মাদকাশক্ত হওয়ার ছয় মাস পূর্বে লামিয়ার সাথে সিয়ামের ডিভোর্স হয়ে যায়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগে সিয়াম, সিয়ামের বাবা আমির হাওলাদার এবং সিয়ামের মা শিখা বেগম আমার মেয়েকে রড দিয়ে পিটিয়েছিল।
হালিমা বেগম আরও বলেন, আমার মেয়ের জমি বিক্রি করা দশ লক্ষ টাকা নাজমার স্বামী মোহাম্মদ আলী হাওলাদার আত্মসাৎ করেছে। ওই টাকার হিসাব চাইলেই আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করতো।মোহাম্মদ আলী হাওলাদার, আমির হাওলাদার, সিয়াম হাওলাদার এবং শিখা বেগম পরিকল্পিত ভাবে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যা কান্ডের বিচার দাবী করছি।এ ব্যাপারে লাশের সুরতহালকারী কর্মকর্তা এস আই বিষ্ণুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাশ মযনা তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।এ ব্যাপারে নড়িয়া থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে আলাপ করতে চাইলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আপনি যে খবরগুলো মিস করেছেন