ডেস্ক নিউজ :
বিচারবিভাগের কাঁধের উপর অস্ত্র ঠেকিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিবর্তন করা যাবে না। গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে চার মিনিটে আর সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না।
আমরা দেখেছি চার মিনিটে সংবিধান বদলে গেছে। দেশে যখন কোন রাজনৈতিক গণ্ডগোল হয়, আমরা আশা করি রাষ্ট্রপতি এখন কিছু একটা করবে। কিন্তু আমরা আশাহত হই। কারণ বর্তমান ব্যবস্থায় একজন দলকানা লোককে রাষ্ট্রপতি করা হয়।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজবাড়ী শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে গণভোটের প্রচার গাড়ি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়, পানি সম্পদ এবং তথ্য সম্প্রসারণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
সৈয়দা রিজওয়ান হাসান বলেন, এবার যারা ভোট দেবেন তাদের অনেকেই জীবনে গণভোটে অংশ নেন নাই। এখন যাদের ৩৮ বছর বয়স তারা কেউই ভোট দেননি বা দিতে পারেননি। গণভোট হচ্ছে আপনারা সকলেই মতামত দেবেন দেশ যেভাবেই চলছে সেভাবেই চলবে নাকি পরিবর্তন হবে। এইযে আমাদের সন্তানেরা প্রাণ দিল। চারশো মানুষ বিভিন্নভাবে দৃষিপ্রতিবন্ধি হয়ে গেলো। যার চোখ নেই । সে দেখতে পায়না। সে কিন্তু সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে মাঠে নেমেছিল। সে কিন্তু ক্ষমতা চায় নি। সে চেয়েছিল এমন একটি নেতৃত্ব। যে নেতৃত্ব দেশকে বৈষম্যহীন ও সাধারণ মানুষের কথা বলার জায়গা করতে পারে। আমরা যদি এটা আইন করে বদলে দেই তাহলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এটা রাখতেও পারে আবার নাও রাখতে পারে। এজন্য এই সরকার জনগণকে ক্ষমতায়িত করতে, প্রশাসনকে জনমূখী করতে, বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন করেছে। এরমধ্যে যে ছয়টি কমিশনের রিপোর্ট, নির্বাচন. ক্ষমতায়ান, ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত সেই কয়টি কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে ঐক্যমত কমিশন হয়েছে। তারা সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলেছেন। ঐ এক্যমত কমিশনের সকল বিষয়ে অনেকেই এক হয় নি।
এইগুলোকে আমরা চারটি মোটা দাগের প্রশ্ন করে আপনাদের কাছে গণভোট আকারে উত্থাপন করেছি। আমরা এর আগেই স্বৈরাচার পতন করেছি কিন্তু পদ্বতি পরিবর্তন হয়নি। পদ্বতির পরিবর্তন না হলে কোন কিছুই পরিবর্তন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, তত্ত্ববধায়ক সরকার থাকলে ক্ষতাকে আর কুক্ষিগত করে রাখা সম্ভব নয়। এজন্য আমরা দেখেছি ২০১১ সালে বিচার বিভাগের সঙ্গে তত্ত্ববধায়ক সরকারের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই এমন একটি মামলা এনে তত্ত্ববধায়ক সরকার বাতিল করা হলো। আমরা দেখেছি চার মিনিটে সংবিধানে বদলে গেছে। আমাদের কি দুর্ভাগ্য যে দেশে যখন রাজনৈতিক গণ্ডগোল হয় আমরা যে আশা করবো এবার রাষ্ট্রপতি কিছু একটা করবেন আমরা সেই আশাটুকুও করতে পারিনা । কারণ দলকানা একজনকে রাষ্ট্রপতি করা হয়।
আলোচনা শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের ইয়াছিন উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে উদ্বুদ্ধকরণ ও মতবিনিমিয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা ও পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদ। একজন জুলাই যোদ্ধা বক্তব্য রাখেন। এবং উম্মুক্ত প্রশ্নত্তোর করা হয়েছে।