রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ

রাজবাড়ীতে জেলা বিএনপির দেশব্যাপী নির্ধারিত পদযাত্রার অনুষ্ঠানে দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি হামলায় পদযাত্রা পন্ড।

জানা যায় , গতকাল সোমবার বিকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সরকারের পদত্যাগসহ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর পদযাত্রা কর্মসূচি একসঙ্গে পালনের কথা। রাজধানীসহ সারা দেশে চলছে বিএনপির এ পদযাত্রা। সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে যুগপৎভাবে প্রথমবারের মতো এ কর্মসূচি পালন করছে সমমনা করবে ৩৬টি দল।

পূর্বঘোষিত বিএনপির সরকার হটানোর ‘এক দফা’ আন্দোলনের পদযাত্রায় রাজবাড়ীতেও বিএনপির নেতাকর্মীরা পার্টি অফিসে জড়ো হতে থাকেন। বিএনপির পার্টি অফিসে প্রথম থেকেই আসলাম-হারুন গ্রুপের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। পরবর্তীতে খৈয়ম গ্রুপের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে পার্টি অফিসে প্রবেশ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। সে সময় জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খৈয়ম গ্রুপের আফছার আলী সরদার সহ ৭/৮ জন আহত হন।

তার কিছু সময় পরে খৈয়ম গ্রুপের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএনপির পার্টি অফিস দখল করতে আসে। সে সময় পুনরায় খৈয়ম গ্রুপ ও আসলাম-হারুন গ্রুপের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে আসলাম-হারুন গ্রুপের নেতাকর্মীরা পিছু নিলে, খৈয়ম গ্রুপ পার্টি অফিস দখলে নেয়। সে সময় উভয়পক্ষের সংঘর্ষে ২০-২৫ জন নেতা কর্মি আহত হন। আহতদেরকে নেতাকর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় আসলাম, হারুন গ্রুপের সদর উপজেলার নেতা আবুল হোসেন গাজী গুরুতর আহত হন।

রাজবাড়ীর-১ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, রাজবাড়ীতে দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে বিএনপির একাংশ। আমরা পদযাত্রায় অংশ নিতে গেলে তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের উপরে হামলা করে। এই হামলায় আমাদের শতাধিক নেতা কর্মি আহত হয়।

জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো.হারুন-উর রশিদ বলেন, সারা দেশের ন্যায় আজ রাজবাড়ীতে ‘এক দফা, এক দাবি’ আদায়ের জন্য পদযাত্রা ছিল। এটা আমাদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। আমরা পদযাত্রা করার জন্য পার্টি অফিসে জড়ো হতে থাকি। কিন্তু খৈয়ম গ্রুপের সন্ত্রাসী ও লাঠিয়াল বাহিনী এসে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের সদর উপজেলার বিএনপি নেতা আবুল হোসেন গাজীসহ বেশকিছু নেতাকর্মী আহত হন।

পুলিশ এসে উভয় পক্ষকে লাঠিচার্জ করে জেলা বিএনপির কার্যালয় নিয়ন্ত্রণ নেয়। খৈয়ম পন্থীরা চলে গেলে এরপর আসলাম হারুন পন্থীরা দলীয় কার্যালয়ে হাজির হয়।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন বলেন, আজকে বিএনপির পদযাত্রা ছিল। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে আমরা এসে উভয় পক্ষের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।