মো. নাহিদুল ইসলাম ফাহিম, রাজবাড়ী :
রাজবাড়ীতে জেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ রাজা সূর্য কুমার ইনস্টিটিউশনের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজী) মো. আক্তার হোসেন খানের অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে ৩০ ডিসেম্বর চাকরী থেকে অবসরে যাওয়া এ শিক্ষকের আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
বিদায় বেলায় ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ও শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও কর্মচারীদের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে পড়েন ওই শিক্ষক।
চাকরি জীবন থেকে অবসর নিচ্ছেন প্রিয় শিক্ষক-এমন খবরে বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, সহকর্মীরা। সবার উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। প্রিয় শিক্ষক ও সহকর্মীর বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও।
এ বিদ্যালয় থেকে দীর্ঘ ২৯ বছর ১ মাস শিক্ষকতা শেষে অবসরজনিত বিদায় নেন এ প্রিয় শিক্ষক মো. আক্তার হোসেন খান।
এদিন অবসরজনিত বিদায়ী এ শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক, উপহার সামগ্রী ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় শিক্ষক-কর্মচারী, বর্তমান-প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেবাশীষ গোষ্মামীর সঞ্চালনায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষক মো. আক্তার হোসেন খানের পাশাপাশি বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী প্রধান শিক্ষক চায়না রানী সাহা, সহকারী শিক্ষক দেবাশীষ গোষ্মামী, মো. আব্দুল হাকিম, মো. আব্দুল মজিদ, আছলেহা খাতুন, আনোয়ার হোসেন খান মুকুল, আইরিন সুলতানা, তাহমিনা সুলতানা, বন্যা শিকদার, কণা খাতুন, রূপালী মন্ডল, তিথি ঘোষ, সাগর মৈত্র, মো. রাজীব হোসেন, মার্থা কর্মকার, নাহিদুর রহমান, অভিভাবক মো. রেজা ও শেফালী বেগম, কর্মচারী কোরবান, স্বপন প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, শিক্ষক মো. আক্তার হোসেন খান পেশা হিসেবে তার শিক্ষকতার জীবন শুরু করেন ১৯৮৭ সালের জানুয়ারি মাসে। প্রথমে তিনি অস্থায়ী শিক্ষক হিসবে কর্মরত ছিলেন বাবুপুর কছিম উদ্দিন বিদ্যাপীঠে। তারপর তিনি কাগজে কলমে এমপিও হয়ে জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুর কাশিমবাজার রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। সেখানে দীর্ঘ ৬ বছর ৮ মাস চাকরী শেষে বদলী হয়ে ১৯৯৬ সালের ৩১ অক্টোবর তারিখে তিনি যোগদান করেন জেলার এই ঐতিহ্যবাহী রাজা সূর্য কুমার ইনস্টিটিউশনের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজী) হিসেবে। আর এখানেই কেটে যায় তার শিক্ষকতা পেশায় চাকরী জীবনের শেষদিন পর্যন্ত।
এছাড়াও তার অসংখ্য শিক্ষার্থীরা মেডিকেল, বুয়েট, চুয়েট ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে। অনেকে সরকারি বিভিন্ন পদে চাকুরি করছেন। একজন গুণী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি পুরো রাজবাড়ী জেলায় তিনি বেশ জনপ্রিয় মুখ।