নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি :
সৌদি আরবে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নেওয়ার পর বেতন না দেওয়া, শারীরিক নির্যাতন ও দেশে ফিরে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম মালু ও তার দুই ছেলে রিফাত ও রনির বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী হলেন দেবিদ্বার উপজেলার ভিংলাবাড়ী গ্রামের মো. হোসেন মিয়ার ছেলে মো. সজিব মিয়া। এ ঘটনায় তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে সজিব মিয়া উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত অনু মিয়া তার চাচাতো মামা। তার মাধ্যমে পরিচয় হয় রিফাত নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। যিনি অনু মিয়ার মেয়ের স্বামী। গত তিন মাস আগে অনু মিয়ার মাধ্যমে রিফাত তাকে সৌদি আরবে নিয়ে যান। সেখানে মাসিক ২২শ সৌদি রিয়াল বেতনের আশ্বাস দিয়ে তাকে কাজে নিয়োজিত করা হয়।
সজিব মিয়া অভিযোগ করে বলেন, এক মাস কাজ শেষ করার পর বেতন চাইলে রিফাত নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরবর্তীতে আরও কয়েক দিন কাজ করার পরেও বেতন না পেয়ে তিনি নিজের আকামা ফেরত চাইলে রিফাত তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে একটি কক্ষে ৫ দিন আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, এরপর তাকে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে সৌদি আরবে তার ভিসা ব্লক করে দেওয়া হয় এবং ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে ফিরে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিষয়টি তিনি অভিযুক্ত অনু মিয়া, শহিদুল ইসলাম মালু, ও মোঃ রনিকে জানালে তারা ও তাকে গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রকার আইনগত পদক্ষেপ না নিতে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়।
সজিব মিয়া জানান, সৌদি আরব যাওয়ার খরচ বাবদ তিনি মোট ৬ লাখ টাকা ব্যয় করেন। ক্ষতিপূরণ হিসেবে ওই টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এবিষয়ে শহিদুল ইসলাম মালু’র সাথে একাধিকবার তার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায় নি।