রাজবাড়ীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ – এলজিইডি’র সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার কলিমহর বাজার থেকে হাটবনগ্রাম বাজার পর্যন্ত চলমান রাস্তা সংস্কারের কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) প্রতিনিধির উপস্থিতিতেই কাজে এমন নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে সংস্কার কাজ চলছে বলেও অভিযোগ এনেছেন স্থানীয়রা। নিম্নমানের পুরাতন ইট দিয়ে কাজ করায় স্থানীয়দের প্রতিবাদী তোপের মুখে শেষ পর্যন্ত শনিবার বিকেলে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন উপজেলা প্রকৌশলী। এসময় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণ করে নেওয়ার নির্দেশও দেন এ কর্মকর্তা।
পাংশা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় কলিমহর বাজার থেকে হাটবনগ্রাম বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩.১ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজের জন্য মোট ২ কোটি ৪৯ লাখ ৩৪ হাজার ৯৬৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সড়কটি পুনঃনির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ পায় রাজশাহী বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। পরে পাংশার সরদার এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত¦াধিকারী মো. মোতাহার সরদার ওই সড়কের ঠিকাদার (সাব-কন্ট্রাক্টর) হিসেবে কাজ পান।
স্থানীয়রা অভিযোগ এনে জানান, কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের পুরাতন ইট ব্যবহার করে আসছিল। বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশলীর প্রতিনিধিকে জানানো হলেও তিনি এবিষয়ে একেবারেই কর্ণপাত করেননি। এতে এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় সচেতনেরা কাজে বাধা দিতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে তাদের প্রতিবাদী তোপের মুখে উপজেলা প্রকৌশলী এ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে রোববার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের পাংশা উপজেলা প্রকৌশলী প্রণব কান্তি বল বলেন, “ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। যার ফলে তৎক্ষনাৎ সেখানকার সড়ক সংস্কার কাজ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজে ব্যবহৃত নিম্নমানের পুরাতন নির্মাণসামগ্রী অপসারণ করে সেখানে নতুন ও মানসম্মত সামগ্রী সরবরাহের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ”
প্রকৌশল বিভাগের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সংগঠিত এমন অনিয়মের ঘটনায় সে প্রতিনিধির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, “যে প্রকৌশল বিভাগের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এমন অনিয়ম সংগঠিত হয়েছে তার বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে জানতে চেয়েছি। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”