আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বরুড়া উপজেলা জুড়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় খামারগুলোতে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু, ছাগল মোটাতাজাকরণের কাজ শেষ পর্যায়ে। কাঁচা ঘাস, খড়, ভুষি ও দানাদার প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়ে লালন-পালন করা পশুগুলোকে বাজারজাত করার প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে।
এবার বরুড়া উপজেলার কয়েকটি খামারে লাইভ ওয়েট বা ওজন অনুযায়ী কেজি দরে গরু বিক্রির ব্যবস্থা। এতে ক্রেতারা সরাসরি গরুর ওজন অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন।
খামারিদের দাবি, এই পদ্ধতিতে গরু কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতারা যেমন প্রতারণার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকছেন, তেমনি তুলনামূলক কম খরচে পছন্দের পশু কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে দিন দিন এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারের কর্মচারী ও মালিকরা। গরুকে নিয়মিত গোসল করানো, খাদ্য সরবরাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।
খামারিদের পাশাপাশি অনেক কৃষকও পারিবারিকভাবে লাভের আশায় কোরবানির পশু লালন-পালন করছেন। উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাট থেকে ঈদের আগে গরু, ছাগল কিনে এনে পালন শুরু করেন তারা।
খামার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করায় উপজেলায় গরুর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। তাছাড়া হাটের ভোগান্তি এড়িয়ে সরাসরি খামার থেকে গরু কেনা এবং ঈদের আগে বাড়িতে বিনামূল্যে ডেলিভারি সুবিধা থাকায় অনেক ক্রেতা খামারমুখী হচ্ছেন।
হানিফ এগ্রো ফার্মের পরিচালক হানিফ বলেন, এ বছর আমরা ১৩০টি গরু প্রস্তুত করেছি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য যেমন কাঁচা ঘাস, খই, কুড়া ও ভুসি দিয়ে এগুলো লালন-পালন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ গরু বিক্রি হয়ে গেছে। আশা করছি বাকি গরুগুলোও দ্রুত বুকিং হয়ে যাবে। এ বছর বড় গরুর চাহিদা বেশি। ক্রেতারা হাটের কষ্ট এড়িয়ে শান্ত পরিবেশে খামারে এসে গরু পছন্দ করছেন। আমরা ৬৫০ টাকা কেজি দরে গরু বিক্রি করছি। ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।