গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) থেকে দুটি সেচ মোটর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক কৃষকের কাছ থেকে নগদ ৮ হাজার ৩০০ টাকা, ব্যাংকের দুটি চেকের পাতা, জমির মূল দলিল, বিএস/বিআরএস পর্চা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ওই চেকের একটি ব্যবহার করে ৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করে হয়রানির অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে বিএমডিএর মাধ্যমে দুটি সেচ মোটরের জন্য আবেদন করেন। পরে তার ফুফাতো ভাই আনিছার রহমানের মাধ্যমে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মো. শাহীন মিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়। অভিযুক্ত শাহীন মিয়া মাই টিভির সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রতিনিধি এবং উপজেলার জয়েনপুর (তুলসীঘাট রোড) গ্রামের মৃত জসিজল হকের ছেলে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
শহিদুল ইসলামের দাবি, সেচ মোটর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রথমে তার কাছ থেকে নগদ ৮ হাজার ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। পরে বলা হয়, মোটরের বরাদ্দ প্রক্রিয়ার জন্য ব্যাংকের দুটি চেক প্রয়োজন। তার ব্যাংক হিসাব না থাকায় অভিযুক্ত তাকে অগ্রণী ব্যাংক, সাদুল্লাপুর শাখায় হিসাব খুলে দেন বলে তিনি জানান।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর হিসাব খোলার পর ব্যাংক থেকে দেওয়া চেকবইয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাতার দুটি চেক অভিযুক্ত নিয়ে নেন। এছাড়া ওই সময় তার কাছ থেকে টিপসই নেওয়া হয় এবং ২৬ শতক জমির মূল দলিল, জমির রেকর্ডের পর্চা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও সংগ্রহ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি অশিক্ষিত ও সহজ-সরল কৃষক হওয়ায় সরল বিশ্বাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চেক দিয়েছেন। কিন্তু পরে দীর্ঘদিন নানা অজুহাতে তাকে ঘুরানো হয়। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তিনি ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জজ আদালতে প্রতারণার অভিযোগে মামলা (নং-৩২/২১) দায়ের করেন।
তার আরও অভিযোগ, মামলা করার পর অভিযুক্ত তার কাছ থেকে নেওয়া চেকের একটি পাতায় ৫ লাখ টাকা লিখে উল্টো সেই অর্থ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে তার প্রতিবেশী লিটন মিয়াও উপস্থিত ছিলেন। তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করে আসছেন।
শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি একজন সাধারণ কৃষক। সরল বিশ্বাসে টাকা, চেক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়েছিলাম। পরে আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি এবং বিভিন্ন মামলায় হয়রানির মুখে পড়েছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শাহীন মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, সংবাদে উল্লিখিত সব অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।