রাজবাড়ীতে ফুয়াদ চৌধুরী রোহান হত্যা মামলায় দুবাইপ্রবাসী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং হত্যা মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়েরের অপচেষ্টা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কাছে এসকল দাবিসংক্রান্ত স্মারকলিপি দিয়েছেন নিহতের বাবা ফরহাদ চৌধুরী ও এলাকাবাসী।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে নিহত রোহানের পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এসকল কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
স্মারকলিপিতে ফরহাদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, তাঁর ছেলে ফুয়াদ চৌধুরী রোহান (২০) রাজবাড়ী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ৮ অক্টোবর দাদশী ইউনিয়নের পাকুরীকান্দা গ্রামের একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রোহানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, এ ঘটনায় রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে দাবি করেন ফরহাদ চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, ওই জবানবন্দিতে দুবাইপ্রবাসী কয়েকজনের হত্যাকাণ্ডে পরিকল্পনা ও অর্থায়নের সংশ্লিষ্টতার বিষয় উঠে এসেছে।
ফরহাদ চৌধুরীর দাবি, হত্যা মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে প্রবাসে থাকা অভিযুক্তরা তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের পরিবারকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে হত্যা মামলার তদন্তের স্বার্থে বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এরআগে একই দাবিতে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনের প্রধান সড়কে একটি ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জেলা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এসময় ভুক্তভোগীর পরিবারের মধ্যে বক্তব্য দেন, নিহত রোহানের পিতা ফরহাদ চৌধুরী ও ফুপাতো ভাই ও রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আরিফুল ইসলাম রোমান। নিহতের পরিবারের দাবিগুলোর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এসময় আরও বক্তব্য দেন, রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. লিয়াকত আলী বাবু, যুগ্ম-আহবায়ক ও সাবেক ভিপি গাজী আহসান হাবীব, রেজাউল করিম শিকদার, বিএনপি নেতা চৌধুরী আহসানুল করিম, জেলা যুবদলের আহবায়ক ও সাবেক ভিপি খায়রুল আনাম বকুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিখন, আহবায়ক আব্দুল মালেক খান, সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন সম্রাট, দাদশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার শেখ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের একটি ডোবা থেকে ৫দিন নিখোঁজ থাকা ফুয়াদ চৌধুরী রোহান ওরফে রোহান চৌধুরীর বস্তাবন্দ্বী মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। রোহান ওই এলাকার স্থানীয় ফরহাদ চৌধুরীর ছেলে। রোহান রাজবাড়ী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।