রাজবাড়ীঃ
রাজবাড়ীতে রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
এসময় মহান মুক্তিযুদ্ধের নিজেদের গল্প শুনিয়েছেন পুলিশ মুক্তিযোদ্ধারা।
সভার শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর ৭১ জন পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্বজনদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার (এসপি) এম এম শাকিলুজ্জামান। সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন। এতে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম, সাবেক এএসপি বীরমুক্তিযোদ্ধা রতন কৃষ্ণ হালদার, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক বীরমুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলী, পুলিশ কনস্টেবল বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুজ্জামান। আলোচনা শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার প্রদান করা হয়।
সাবেক পুলিশ পরিদর্শক বীরমুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলী বলেন, যুদ্ধে যাওয়ার কথা আমার বাবাকে বলি। তিনি অনুমতি দেন। আমার কাছে তিনি ৩০ টাকা দেন। ভারত যাওয়ার সময় অনেক স্থানে আমাদের আটকানো হয়। পায়ে হেঁটে হেঁটে আমরা বর্ডার ক্রস করি। সেই অভিজ্ঞতা ছিল মর্মান্তিক। এক পর্যায়ে আমাদের মাথার ওপর দিয়ে গুলি করা হলো। এরপর যারা একটু লম্বা ছিল। তাদের ধরে নিয়ে একটি আখ খেতে বসিয়ে রাখা হলো। আমাদের গুলি করা হবে। এসময় আমাদের নেতৃত্ব দানকারী আমাদের ভারতে যাওয়ার কারণ নিয়ে ব্যাখ্যা করতে লাগলেন। তিনি পাকবাহিনীর বর্বরতা, আমাদের মা বোনদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরতে লাগলেন। মায়ের সামনে ছেলেকে মেরেছে। ছেলের সামনে মাকে মেরেছে। এসব বিবর্ষ কাহিনী তুলে ধরতে লাগলেন। এতে করে অনেকের চোখে পানি চলে আসে। এরপর রাজাকারেরা তাকে ছেড়ে দিতে চাইলো। কিন্তু তিনি আমাদের ছেড়ে একা যেতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তাকে গামছা দিয়ে পিঠমোড়া করে বাধা হয়। এরপর তিনি একই বক্তব্য দিতে থাকে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এখন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বলা হয়। এগুলো খুব খারাপ। কারণ এখন একজন ইচ্ছে করলে দেশের সর্বোচ্চ পদে যেতে পারবে। কিন্তু ইচ্ছে করলেই কেউ মুক্তিযুদ্ধ করতে পারবে না। আমাদের এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে হবে।
সাবেক এএসপি বীরমুক্তিযোদ্ধা রতন কৃষ্ণ হালদার বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলাম। জীবন নিয়ে ফিরতে পারবো তা ভাবিনি। তবে আমরা ফিরতে পেরেছি। দেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা মাথা উঁচু করতে বাঁচতে পারছি।
পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, রাজারবাগ পুলিশলাইন থেকে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়ে ছিল। আমরা এখনো যুদ্ধ করছি। পাংশা থানার দায়িত্ব পালনরত ওসিকে নিশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে। করোনা শুরুর সময় আমরা সার্বক্ষণিক সময় মাঠে ছিলাম। আমরা আমাদের সহকর্মীকে হারিয়েছি।