ব্রেকিং নিউজ কালীগঞ্জে ধর্ষণের মামলায় পলাতক এনসিপি নেতা আটকনাগেশ্বরী সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ, ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবিতেবাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও নাশকতা চায় না-এমপি ফজলুল হক মিলনসিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিচাঁদা দাবি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মামলা, গ্রেপ্তার ৩

বালিয়াকান্দিতে ধূলায় ভোগান্তি হাজারো পরিবারের 

রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় সড়কের কার্পেটিং কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে করে রাস্তার ধূলায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাতায়াতকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) উদ্যোগে এই কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বালিয়াকান্দি-মৃগী সড়কটি গ্রামীণ সংযোগ উন্নয়ন প্রকল্পের (আরসিআইপি) আওতায় দরপত্র আহবান করা হয়। ১২ দশমিক ৩ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পায় নাটোরের উত্তর বরগাছার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মীর হাবিবুল আলম। কাজের চুক্তিমূল্য ১৫ কোটি ৫৫ লাখ চার হাজার ১৫০ টাকা। ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কাজ শুরু করা হয়। ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল। ইতিমধ্যে কাজের মেয়াদ দুইবার বাড়ানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নারুয়া বাজারের পর থেকে রাস্তায় শুরু খোয়া উঠে গেছে। রাস্তা দিয়ে ট্রাক, মোটর সাইকেল, ইজিবাইক, নছিমন, ভ্যান, বাইসাইকেল, ড্রাম ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন যাতায়াত করছে। গাড়ি আসলেই ধূলায় এলাকা ছেড়ে যাচ্ছে। রাস্তার পাশের গাছগুলোর পাতায় ধূলায় ঢেকে গেছে। পাতার রং বোঝা যাচ্ছে না।
বিলধামু গ্রামের বাসিন্দা সাগর বিশ্বাস বলেন, এই রাস্তাটিতে অনেক দিন খানাখন্দ ছিল। রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে অনেক সমস্যা হতো। প্রায়ই গাড়ি নষ্ট হয়ে যেতো। এরপর রাস্তার কাজ শুরু করা হয়। প্রথম প্রথম কিছুদিন কাজ ভালোই চলছিল। তবে এরপর থেকে একদিন কাজ করে তো দুই দিন বন্ধ রাখে। রাস্তার খোরার পর খোয়া দিয়ে সমান করে রাখা হয়। অনেক দিন ধরে এভাবে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে রাস্তা থেকে খোয়া উঠে গেছে। মানুষের যাতায়াত করতে আবারও কষ্ট করতে হচ্ছে।
বিলটাকাপোড়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুল গফুর বিশ্বাস বলেন, রাস্তা এভাবে ফেলে রাখায় খুব সমস্যা হচ্ছে। ধূলাবালুতে সব কিছু একাকার হয়ে গেছে। বাড়িতে থাকাও দায় হয়ে পড়েছে। সবকিছুতে প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে ধূলা পড়ছে। মনে হয় বাড়ি অনেক দিন ধোয়া মোছা হয়না। জামাকাপর পরিস্কার করা হয়না। কিন্তু এসব হচ্ছে রাস্তার ধূলায়। গাছপালার পাতার ওপরেও ধূলার আবরণ পড়েছে। এতে করে পাতার রং বোঝা যাচ্ছে না। শুরু আমার বাড়িতে এই সমস্যা না। এই এলাকার প্রতিটি বাড়িতেই এই সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের বাড়ি রাস্তার পাশে তাদের সমস্যার শেষ নেই।
বিলধামু গ্রামের মসজিদের সামনে থেকে আহমদ আলী মোল্লা বলেন, বাড়িতে খাবার-দাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোনো কিছু ভুল করে খোলা রাখলেই ধুলাবালু গিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন আম-লিচুর মুকুল আসার সময়। কিন্তু যেভাবে গাছের ওপর ধূলাবালু জমেছে তাতে মুকুল আসবে কিনা সন্দেহ। কারণ কয়েক স্তর ধূলা পড়েছে। এদিকে বৃষ্টি নেই। সেকারণে এগুলো পরিস্কার হচ্ছে না। আবার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাস্তায় ধূলা মারার জন্য কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। তাহলে কাজ দেরি হলেও ধূলা না থাকলে সাধারণ মানুষের এতো ভোগান্তি পোহাতে হতো না।
ঠিকাদারের প্রতিনিধি আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। পরে স্থানীয় একজন কাজের দায়িত্ব নেয়। তিনি কাজ কিছুদিন বন্ধ রেখে ছিলেন। তবে তাকে কাজ শুরু করার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে আবার কাজ শুরু করা হবে।’
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন বলেন, ‘ধূলাবালির কারণে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা হতে পারে। এতে শ্বাসতন্ত্র, নিউমোনিয়া, এলার্জি সংক্রান্ত বিভিন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ঠান্ডা-কাঁশি বেশি হয়। এসব রোগে আক্রান্তদের ধূলাবালি এড়িয়ে চলা উচিত।’
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করেছেন বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী খোন্দকার রাহাত ফেরদৌস। তিনি বলেন, ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছেন। আমরা তাকে লিখিত ও মৌখিক ভাবে কাজ শুরু করার জন্য তাগাদা দিয়েছি। আশা করছি, অল্প কিছু দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।

লেখক