মোঃ সোহেল রানা ( বেতাগী )ঃ
বরগুনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে বরগুনা-২ ( বেতাগী-বামনা ও পাথরঘাটা) সংসদীয় আসনের জামায়াত-বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থীরা।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে বরগুনায় জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সমাবেশে যাওয়ার পথে বাঁধা ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াত। অপরদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের বাঁধা দেয়া এবং তাদের ওপর হামলার ঘটনা অস্বীকার করে জেলা বিএনপির জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি।
জামাতের সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরুর ওপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বিকেল সাড়ে ৩টায় বরগুনা জেলা জামায়াত কার্যালয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বরগুনা ২ আসনে জামায়াত মনোনিত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ।
জামাতের সংবাদ সম্মেলনে বরগুনা-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ অভিযোগ করেন, ওই (বরগুনা-২) আসনের বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি’র ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা পাথরঘাটায় ১১ দলীয় জোট আয়োজিত শেষ নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার জনসভায় যেতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাঁধা দেয়। পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বিভিন্ন স্থানে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এতেহ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিনষ্ট করার অচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এসময় বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সারোয়ার হিরুর উপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে এর সুস্ঠু বিচারের দাবি করা হয়। এছাড়াও বেশ কয়েকদিন ধরে চলা এসব অপ্রীতিকর ঘটনায় আগামীর ভোট নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন জামায়াত জোট মনোনিত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ।
অপরদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় জেলা বিএনপির জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি। গতকাল পাথরঘাটায় জামায়াতের প্রার্থীর শেষ নির্বাচনী সভায় যাওয়ার পথে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের বাঁধা দেয়া এবং তাদের ওপর হামলার ঘটনা অস্বীকার করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আমি তাদের (জামায়াত) অনুরোধ করেছি যে বাইরের লোক যেন না আসে, এখান থেকে ট্রলার ভরে ২০-২৫টি ট্রলার ভরে লোকজন যাচ্ছে ঐখানে। আপনারা বাঁধা দেন না কেন। এই সব লোকেরা (বাইরের লোকেরা) একটা নির্বাচনী এলাকায় ঢুকলে গন্ডগোল হতেই পারে। এই যে কালকে গোলাম সরওয়ারকে মেরেছে বাইরের লোকেরা মেরেছে কি না তাও জানি না কিন্তু বাইরের লোক মারতে পারে। তাদের হাতে রামদা পাওয়া গেছে, লাঠিসোঁটা পাওয়া গেছে, এগুলো তো ছবি ভাইরাল হয়েছে। কাজেই এটা হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, ওখানে কিছু ছেলেপেলে ছিল তখন তারা চেষ্টা করেছে বাইরের লোক নিয়ে ঐসব ট্রলার যাতে না আসে। কিছু ট্রলার ঢুকছে কিছু ট্রলার যায়নাই, কিছু ট্রলার গেছে। এরকম একটি মবের মধ্যে আপনারা (সাংবাদিকরা) পড়ছেন, আমি নিজেও পড়েছিলাম। আমি তো বেতাগী গেছি, আমি দেখি ফেরি আসে না। আমি দাঁড়িয়ে রইছি ওইখানে আমার মিটিং এর টাইম চলে যাচ্ছে। পরে ভাবছি আমি ফেরিতে পার হয়ে ওই পাশ দিয়ে যাবো। পরে দেখি ফেরি আসছে পরে আমি গেছি। কাজেই এই সমস্যা হতে পারে। আমি তার জন্য আন্তরিকভাবে দু:খিত। তবে কোনোভাবেই বলা হয়নি সাংবাদিকদের বাধা দেয়ার জন্য। কোনোভাবেই নির্দেশ দেয়া হয়নি কোনো স্বাভাবিক চলাচলে বাধা দেয়ার জন্য।