নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার ৬নং এনায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে, কমেছে ভোগান্তি এবং সহজ হয়েছে নাগরিক সেবা।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মেহেদী হাসান মিঞা জানান, তিনি টানা তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদে সেবার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নাগরিকরা এখন হাতের নাগালে পাচ্ছেন বিভিন্ন সেবা। বিশেষ করে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম স্থানীয় মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। মামলা দায়েরের পর দ্রুত শুনানি গ্রহণ করা হয় এবং নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম চলমান থাকে।
পাঁচ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত এ আদালতে আবেদনকারী ও বিবাদী পক্ষ থেকে দু’জন করে প্রতিনিধি এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেন। নারীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নারী সদস্যের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। উভয় পক্ষের বক্তব্য, প্রমাণ উপস্থাপন ও আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানের চেষ্টা করা হয়। ফলে অল্প সময় ও কম খরচে বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে।
চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিঞা বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে স্থানীয় ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে। এতে মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকছে।
তিনি আরও জানান, ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের বসবাস এই ইউনিয়নে।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম শাহীন, হিসাব সহকারী ইয়া সুলতানা, কম্পিউটার অপারেটর ও গ্রাম আদালতের পেশকার শ্রী অমৃত চন্দ্র, ইউপি সদস্য মোঃ আজাদুল, মোঃ আব্দুল হান্নান, মোঃ ফিরোজ হোসেন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছাঃ রেহেনা বেগম, ফেন্সি বেগম ও শেফালী বেগমসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিয়মিত গ্রাম আদালত পরিচালনার ফলে জমিজমা, পারিবারিক ও সামাজিক নানা বিরোধ সহজেই মীমাংসা হচ্ছে। এতে আদালতমুখী জটিলতা কমছে এবং গ্রামীণ সমাজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকছে।
স্থানীয়রা জানান, গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে মানুষের মাঝে আস্থা ও স্বস্তি ফিরেছে। চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিঞার প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দক্ষতায় ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সেবার মান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তৃণমূল পর্যায়ে বিচারপ্রাপ্তি আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে।