ব্রেকিং নিউজ আক্কেলপুরে পুলিশকে মারধর-পিকআপ আটকানো-হুমকির অভিযোগে বাবা ও ছেলে গ্রেপ্তারলক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ক্রীড়া সংস্থার নতুন কমিটি গঠন; সভাপতি ইউএনও কাজী আতিকুর রহমানকালবৈশাখী ঝরে গাছচাপায় বেদে পল্লীর অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুপার্বতীপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠিতসিরাজগঞ্জে বাজার স্টেশন পুলিশ বক্সের শুভ উদ্বোধন

তেজগাঁও কলেজের নামকরণ : ভৌগোলিক ও দূরদর্শী অর্থের সমন্বয়

শোয়েব হোসেন, ঢাকা : 

ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত তেজগাঁও কলেজ, ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চলেছে। ১৯৬১ সালের ২২ ডিসেম্বর, বুড়িগঙ্গার তীরে ইসলামিয়া হাই স্কুলের ক্যাম্পাসে “ঢাকা নাইট কলেজ” নামে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে রাতের ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রদান করাই ছিল এর লক্ষ্য। ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত কলেজটি ফার্মগেটের আল-রাজী হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তরিত হয় এবং সেই সময়েই “ঢাকা নাইট কলেজ” থেকে “তেজগাঁও কলেজ” নামে পুনঃনামকরণ করা হয়। পরবর্তীতে, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর, তৎকালীন অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ এবং শিক্ষামন্ত্রী মফিজ উদ্দীন আহমেদের প্রচেষ্টায় কলেজটি তেজগাঁও শিল্প এলাকার আসাদুল হকের ক্রাউন লন্ড্রিতে স্থানান্তরিত হয়, যেখানে আজকের স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে উঠেছে।

কলেজের প্রতিষ্ঠায় যাঁরা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁদের মধ্যে প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী শফিকুল ইসলামকে, যিনি প্রতিষ্ঠানের প্রথম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাওলানা আবুল খায়েরের নিরলস কর্মপ্রচেষ্টা ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠতে পারত না; তিনি শিক্ষার প্রসারে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম, অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ, অধ্যক্ষ আব্দুর রশীদ এবং অধ্যক্ষ মোঃ আনোয়ার হোসেনের মতো শিক্ষাবিদরা বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্ব দিয়ে কলেজটিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত একটি বৃহৎ বেসরকারি কলেজে পরিণত করেছেন। এছাড়াও, প্রফেসর আব্দুল বাকি, প্রফেসর রাহুনুর রহমান, প্রফেসর শাহেদুল হক এবং সহযোগী প্রফেসর সোলাইমান চৌধুরী সহ অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা কলেজের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন।

“তেজগাঁও” নামটি শুধু একটি ভৌগোলিক নির্দেশক নয়; এটি কলেজের আকাশচুম্বী লক্ষ্য ও অগ্রগতির প্রতীক। তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত হওয়ায়, এই নামটি শিক্ষার্থীদের শিল্প ও বাণিজ্যের জগতে প্রবেশের সেতু হিসেবে কাজ করে। “কলেজ” শব্দটি যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার উচ্চ মান ও আধুনিকতার প্রতি প্রতিশ্রুতি প্রকাশ পায়। ফলে, নামটি প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য, অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গিকে সুন্দরভাবে ধারণ করে।

আজ তেজগাঁও কলেজে চারটি অনুষদের অধীনে ৩০টিরও বেশি বিভাগ রয়েছে, যেখানে প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা সংখ্যা ২৫০-এর বেশি, এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা ২০ জনেরও অধিক। কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকে শিক্ষা ও গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে, বিশেষ করে বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগে। সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, বিতর্ক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

লেখক