রাজবাড়ীতে “ ফ্যামিলি কার্ড, স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা” এই প্রতিপাদ্য ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং পর্যায়ের উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে পাংশা উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে কার্ড হস্তান্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধামন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ, পুলিশ সুপর মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আজ ফ্যামিলি কার্ড হস্তান্তর প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। আমরা যেমন নারীকে সম্মান করেছি, নারীর শ্রমকে সম্মান করেছি, অর্থনীতির শক্ত ভীত স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রমানের নেতৃত্বে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান শুরু করলাম। কোন রকম রাজনৈতিক বিবেচনায় এই কার্ড প্রদান করা হয়নি। কারণ এই কার্ডটি সার্বজনীন। প্রথমে দরিদ্র, হতদরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারকে প্রথমে এই কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি মানুষকে এই কার্ড প্রদান করা হবে।
উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার কথায় বিশ্বাস করে না, কথা বলার রাজনীতি করে না। তারা কথাকে কাজে পরিণত করে। তারই অংশ হিসেবে ১২ লাখ কৃষকের ৬০ লাখ মানুষের জন্য ১০ হাজার টাকা করে কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে। রমজান মাস উপলক্ষে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ঈমাম, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য উপসানলয়ে ধর্মীয় পুরোহিতদের ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। আগামি ১৬ মার্চ খাল খননের উদ্বোধন করা হবে।
এই সরকার কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড প্রদান করবে। কৃষক ও ভোক্তার নায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই দেশের জনগণ আমাদের ম্যান্ডেড দিয়েছেন। জনগণই আমাদের শক্তির মূল উৎস। জনগণ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। যত বাধা বিপত্তিই আসুক আমরা জনবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে জনজীবনে স্বস্তি, দারিদ্রতা বিমোচন, শিক্ষা, বেকারত্ব দূর করার জন্য কাজ করে যাবে।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ, পুলিশ সুপর মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার।
প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, নির্বাচনের সময় ইশতেহারে যখন এই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলা হয়েছিল তখন অনেক দল নানা ধরণের কথা বলেছিল। তারা এটিকে ভুয়া বলে আখ্যা দিয়েছিল। আজ সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই এই কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। এই সরকার তার প্রতিশ্রুতি রাখছে। আগামিতে কৃষদের কৃষি কার্ড প্রদান করা হবে। ১০ টি জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা এই তালিকায় রয়েছে। খুব দ্রুতই এই কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ ও পদ্মা সেতু নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের প্রতিটি বালুকণা সোনায় রূপান্তরিত হবে। তিনি অর্থ উপদেষ্টাকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সহযোগীতা আহবান করেন।
উল্লেখ্য, জেলার পাংশা উপজেলার হাবসপুর ইউনিয়নের ১ হাজার ২০১ জন সুবিধাভোগী নারী এই ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। ইতমধ্যে তাদের মোবাইলে ২ হাজার ৫ শত ১৫ টাকা করে ব্যালেন্স চলে এসেছে বলে জানা গেছে।