রাজবাড়ী জেলা সদর উপজেলার মুলঘর ইউনিয়নের এড়েন্দা গ্রামের এসএম আজাহার আলীর বাড়ীতে রাতের অন্ধকারে মারপিট করে স্বর্ণালংকার ও অর্থ লুটের ঘটনায় ডাকাতি, মারপিট ও ভয়ভিতি প্রদর্শনের মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
মঙ্গলবার (১০মার্চ) রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে এ মামলা দায়ের করেন মুলঘর ইউনিয়নের এরেন্দা গ্রামের এসএম আজাহার আলী।
এ মামলায় তিনি ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। এসময় বিভিন্ন ধারায় মারপিট, ডাকাতি ও ভয়ভিতি প্রদর্শনের মামলা দায়ের করেন তিনি।
এ মামলায় কোলা গ্রামের ইকলাস বিশ্বাসের ছেলে মো. ইমরান বিশ্বাসকে ১ নম্বর আসামী করা হয়। ২ নম্বর আসামী করা হয় ঘনশ্যামপুর গ্রামের ইমনকে। এছাড়াও ওই এলাকার গাফফারের ছেলে লাদেন, কোলা গ্রামের কোবাদ বিশ্বাসের ছেলে হাসমত বিশ্বাস, এরেন্দা গ্রামের মৃত ফজের আলীর ছেলে আসিফ ও বাঘিয়ার ইমরান সহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামী করে মামলা দাযের করা হয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, বাদী এরেন্দা গ্রামের একজন সহজ সরল সাধারন মানুষ। গত ২৫ ফেব্রুয়ারী তার নিজ বাড়িতে নামীয় আসামী সহ একদল সন্ত্রাসী আসামীরা লুট করার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র, লোহার রড, রামদা, বাঁশের লাঠিসহ তার বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। এসময় মামলার ৩নং সাক্ষি আলেয়া বেগমকে একটি রুমে আটকিয়ে রাখে। ২নং সাক্ষি ইব্রাহিম মন্ডলের স্ত্রী তমা’কে হত্যার হুমকী ও মারধর করে শোকেসের চাবি ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে। এতে তমা’ র পরনের কাপর টেনে বিবস্ত্র করে ফেলে। পরে ঘর থেকে স্বর্ণের চেইন, রুলি, হাড়, দুটি আংটিসহ প্রায় সোয়া ৯লক্ষ টাকার স্বর্ণ ও বড়ই বিক্রির ৪৪ হাজার টাকা ডাকাতি করে নিয়ে যায়। এসময় বাড়ির মানুষ বাঁধা দিলে মামলার সাক্ষি মো. ইব্রাহিম মন্ডল ও তার স্ত্রী তমা’কে মারপিট ও হত্যার উদ্দেশ্যে শ্বাশরোধ করে, এলোপাথারী বাঁশের লাঠি দিয়ে মারপিট, কিল-ঘুষি,লাথি মেরে মারাত্বক আহত করে।
এ সময় বাদীর বাড়ির লোকজনের চিৎকারে আসামীরা লুট করে যাবার সময় হুমকী দিয়ে যায়। পরে আহতরা সদর হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেয়।
পরে ১ নং আসামীর পিতা ইকলাস বিশ্বাস, ২ নং আসামীর শ্বশুর হাসমত বিশ্বাস স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও নানা তালবাহানা করে ঘুরাতে থাকে।
মামলার বাদী এস এম আজাহার আলী জানান, আসামীরা এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও মাদক কারবাড়ী সহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত। সব ধরনের অপরাধ কাজে তারা লিপ্ত থাকায় এলাকার মানুষজন তাদের প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না।তারা আমার বাড়িতে জোর পূর্বক ঢুকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। আমি এ মামলার সব আসামীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবী জানাই। যাতে তারা আর কোন অপরাধ করার সাহস না পায়।
এ মামলার আসামী ইমন’কে ফোন করা হলে তিনি জানান, আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। আপনি আমার ফোন নম্বর যেখান থেকে পেয়েছেন সেখান থেকে আমার পরিবারের নম্বর নিয়ে কথা বলেন।
এবিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা এখনো হাতে পাইনি। আদালতের নির্দেশনার কপি হাতে পেলে নির্দেশনা মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলেও জানান তিনি।