গাইবান্ধায় এক গর্ভবতী রোগীকে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর পরামর্শ দেওয়া এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী রোগ ও প্রসূতি বিদ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জন ডা. শামীমা বেগম শিউলীর বিরুদ্ধে। তিনি এমবিবিএস, এফসিপিএস (অবস্ অ্যান্ড গাইনী), সহকারী অধ্যাপক (অবস্ অ্যান্ড গাইনী) এবং বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নং–৪৩০৫৯ধারী চিকিৎসক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০ মে সকাল আনুমানিক ১০টায় সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ টাকা ফি দিয়ে রশিদ কেটে এক গর্ভবতী নারীকে দেখাতে নিয়ে যান তার স্বজনরা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে গাইবান্ধা প্রাইম ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডা. মাহবুবের কাছে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর পরামর্শ দেন। পরে ভুক্তভোগীরা সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বিকেল ৫টার আগে বসবেন না।
পরবর্তীতে রোগীর স্বজনরা দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান “ডিজিটাল এক্স-রে সেন্টার”-এ আল্ট্রাসনোগ্রাফি করান।
এরপর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালের ১ নম্বর গেট সংলগ্ন ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অবস্থিত ডা. শামীমা বেগম শিউলীর চেম্বারে ৬০০ টাকা ভিজিট দিয়ে সিরিয়াল অনুযায়ী রোগীকে দেখাতে গেলে, অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পূর্বের আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট গ্রহণ না করে পুনরায় ডা. মাহবুবের কাছে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করিয়ে আনতে বলেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, পুনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার মতো অর্থ তাদের কাছে না থাকায় সারাদিনের ভোগান্তির পর বাধ্য হয়ে গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে হয়।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, প্রাইম ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বাইরে অন্য প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট গ্রহণ না করায় সাধারণ রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও মানসিক দুর্ভোগ বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন গর্ভবতী রোগী সারাদিন ঘুরেও কেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবেন? একটি রিপোর্ট দেখেই প্রাথমিক চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হলে কেন পুনরায় নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা হবে? অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসকরা কি চিকিৎসক নন? সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যন্ত্রপাতিতে কি কোনো ত্রুটি রয়েছে? এ কেমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা, এ কেমন মানবতা—এমন প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, রোগীর প্রয়োজন ও চিকিৎসাগত যৌক্তিক কারণ ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানোর চাপ সৃষ্টি করা চিকিৎসা নৈতিকতা ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হয়রানি ও বিলম্ব ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলেও মত দিয়েছেন সচেতন মহল।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ব্যবহৃত ০১৭১৯-০২৬৭৮৭ নম্বরে পরিচয় দিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল করা হলেও আর ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।