রাজবাড়ীতে রবিবার (১ মার্চ) জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী ২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ হারুন।
মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে আমরা কয়েকটি সেমিনার করেছি। সেই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারকে অবহিত করি। সেখানে চারটি মন্ত্রনালয়ে সভা হয়। সেই সভায় প্লানিং হয়ে বিগত সরকারের সময় পদ্মা ব্যারেজের বিষয়টি প্রি একনেক হিসেবে পাশ হয়ে আছে। আগামি ৮ তারিখ একনেকের সভা আছে। আমি আশা করছি খুব দ্রুতই এটি পাশ হবে। পাশাপাশি যদি দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয় তাহলে এই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এই এলাকার প্রত্যেকটি বালিকণা সোনায় পরিণত হবে। এরকম একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে আমাদের অনেকগুলো দাবি কিন্তু সামনে এসেছে। পদ্মা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি এই অঞ্চলে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করতে হবে। আমাদের রেলের দেশের মধ্যে একটি বড় ওয়ার্কশপ হওয়ার কথা ছিল এখন সেটি থেমে আছে। একটি ক্যান্টমেন্ট করার জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল কিন্তু সেটি আর হয়নি। ২০০১ সালে এমপি থাকাকালীন সময়ে একটি আধুনিক নৌবন্দর নির্মাণের বিষয়ে পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়। আমাদের অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এটি জরুরি জিনিস। দ্রুত হাসাপতালের কি সীমাবদ্ধ রয়েছে তার সমাধান করে মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
রাজবাড়ী জেলা এখন মাদকে ছেয়ে গেছে। মাদক নিয়ে ইতিমধ্যে মার্ডারও হয়েছে। এসব বন্ধ করতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ সুপারকে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ হারুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি মানুষের কর্মসস্থানের ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন। ইতমধ্যে ৮০ হাজার স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগের ঘোষনা প্রদান করা হয়েছে। আমাদের এখানে শিল্পের তেমন কোন উন্নতি নেই। আমাদের অঞ্চল মূলত কৃষি প্রধান। কর্মসস্থান না থাকার কারনে মাদকের সঙ্গে জড়িত হওয়ার একটি অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। শুধু মাত্র পুলিশ প্রশাসন চেষ্টা করলেই এই মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক ও নেতাকর্মীদের এই মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা।