ব্রেকিং নিউজ নওগাঁ-৬ আসনের এমপি রেজুর অর্থায়নে আত্রাই ও রানীনগরে নির্মিত হচ্ছে দুটি পুলিশ বক্সসেচ মোটর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে টাকা-চেক নেওয়ার অভিযোগ; সাদুল্লাপুরে সংবাদ সম্মেলনে কৃষকের দাবিআত্রাইয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাঝিনাইগাতী উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী  উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিদর্শন কালীগঞ্জে বিধবা ও প্রতিবন্ধী পরিবারের সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

পলাশবাড়ী থানার ওসি পরিচয়ে আসামি গ্রেপ্তারে অর্থ দাবির অভিযোগ; ভুক্তভোগীর থেকে পাওয়া কথিত অডিও রেকর্ড ঘিরে চাঞ্চল্য

আহসান হাবীব নাহিদ
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি :

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিচয়ে আসামি গ্রেপ্তারের নামে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর নিকট সংরক্ষিত একটি কথিত অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি মামলার বাদীর লিখিত অভিযোগও সামনে এসেছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারী মোছা. লুৎফা বেগম (৫২), স্বামী- মো. আনিছুর রহমান, গ্রামের বাড়ি রামচন্দ্রপুর, গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার মেয়ে মোছা. সুহাদা বেগমকে যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন তার স্বামী মো. রিয়াজুল হাসান আতিক (২২) ও শাশুড়ি মোছা. রিংকা বেগম (৪০)। তারা পলাশবাড়ী উপজেলার ৯ নম্বর হরিনাথপুর ইউনিয়নের কিশামত কেওড়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগে বলা হয়, প্রায় দেড় বছর আগে সুহাদা বেগমের সঙ্গে আতিকের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাকে নির্যাতন করা হতো। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা নং-৫৯/২৬ দায়ের করেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮ মে ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সুহাদা বেগম তার স্বামীর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন দুর্ঘটনার খবরটি মিথ্যা ছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এরপর আসামিরা আদালতে চলমান মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। তিনি রাজি না হলে তার ওপর বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর, চুল ধরে টানাহেঁচড়া এবং গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগীর মা লুৎফা বেগমের দাবি, ঘটনার পর তিনি ৪ জুন ২০২৬ পলাশবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের পর আসামিদের গ্রেপ্তার নিয়ে তিনি ৬ জুন নিজেকে পলাশবাড়ী থানার ওসি পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। সেই কথোপকথনের ভুক্তভোগীর নিকট সংরক্ষিত কথিত অডিও রেকর্ড সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগীর নিকট পাওয়া ওই কথিত অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, আসামি গ্রেপ্তারের জন্য অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কথোপকথনে লুৎফা বেগম জানতে চান, তিনি বাসায় গিয়ে টাকা দেবেন নাকি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঠাবেন। জবাবে অপর প্রান্তের ব্যক্তি বাসায় যাওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে ০১৯৪০১০৪১৭৫ নম্বরের একটি রকেট অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলেন এবং দাবি করেন, টাকা পাঠানো হলে লোক পাঠিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করা হবে। অভিযোগকারী দাবি করেন, ওই কথোপকথনের পর তিনি উল্লিখিত রকেট নম্বরে অর্থ পাঠান।

তবে ভুক্তভোগীর নিকট পাওয়া কথিত অডিও রেকর্ডটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া অডিওতে শোনা কণ্ঠস্বর প্রকৃতপক্ষে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর কি না, সেটিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সরকারি মোবাইল নম্বর ০১৩২০-১৩২৪৫৪-এ যোগাযোগ করে মামলা ও আসামি গ্রেপ্তারের নামে রকেট নম্বরে অর্থ গ্রহণসংক্রান্ত কথিত অডিও রেকর্ড সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে, তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পরে এবিষয়ে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপারের বক্তব্য নেওয়ার একাধিকবার চেষ্টা করেও তা পাওয়া সম্ভব হয়নি।

লেখক