রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ভূক্তভোগি কিশোরীর নানী বাদী হয়ে শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনায় সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার যুবকের নাম রাজু শেখ (৩৫)। তাঁর বাবার নাম শওকত শেখ। রাজু রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। রাজু সদর হাসপাতালের ফটকের সামনে চা’য়ের দোকান করে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভূক্তভোগি কিশোরীর (১৫) বাড়ি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের চরফরিদপুর গ্রামে। সে ১০/১২ দিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়। তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। কিন্তু কোথায়ও তাকে পাওয়া যায়নি। তাঁর প্রতিবেশী বহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য (৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড) শাহানাজ সপ্তাহখানেক ধরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে তাঁর মেয়ের চিকিৎসা দিচ্ছেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে শাহানাজ তার নাতনীকে রাস্তায় দেখতে পায়। দেখতে পাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাত ১২টার দিকে সদর হাসপাতালে মেডিসিন ওয়ার্ডে ওই কিশোরীকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত পৌণে ১টার দিকে ঘুম থেকে জেগে দেখেন কিশোরী বিছানায় নেই। শাহানাজ তাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। এক পর্যায়ে জানতে পাওে রাজু ওই কিশোরীকে নিয়ে তিনতলার ছাদে ওঠার সিঁড়ির দিকে গেছে। তিনি গিয়ে সেখানে রাজুকে ধর্ষণ করতে দেখেন। এসময় রাজুকে আটক করলে রাজু দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় তাদের শোরগোলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এরপর তিনি ৯৯৯ এ ফোন দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৩১ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে ওই কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর সে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। ৩ জুন থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে পলাতক দেখায়।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রাজুর স্ত্রী নদী বেগম। তিনি বলেন, রাতে আমার স্বামী আমার কাছে সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল। রাত ৩টার দিকে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে আসে।
রাজুর বাবা শওকত শেখ বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে মহিলা মেম্বার টিউবওয়েলের পানি নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে জানতে পারি আমার ছেলের নামে মামলা করেছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাকে রাজাবড়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে।