গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ এক গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসা না দিয়ে অপমান করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাইনি কনসালটেন্ট ডা. মোছা. শামীমা আক্তার শিউলির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকলেও ডা. শামীমা আক্তার শিউলির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠানোসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পরও দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ডা. শামীমা আক্তার শিউলি’র বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ, নেই কোনো ব্যবস্থা — খুঁটির জোর কোথায়?
এদিকে সম্প্রতি ভুয়া গর্ভধারণের রিপোর্ট প্রদান নিয়ে আলোচিত নুসরাত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটিতেও তাকে সদস্য করা হয় বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের নুনগোলা গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহিন মিয়ার স্ত্রী মোছা. ফাতেমা বেগম (২৫) বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য সময় ঘনিয়ে আসায় কয়েকদিন আগে তারা সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। পরে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৭ মে গাইনি কনসালটেন্ট ডা. শামীমা আক্তার শিউলির শিফটে হাসপাতালে গেলে ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, চিকিৎসক রোগীর রিপোর্ট দেখেও কোনো চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় পরামর্শ না দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বলেন, “যার কাছে চিকিৎসা নিয়েছো, তার কাছেই যাও।”
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওইদিন সকাল ১০টার দিকে ভুক্তভোগী নারীকে নিয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হন শাহিন মিয়া ও তার স্বজনরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়।
ভুয়া গর্ভধারণের রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগে আলোচিত নুসরাত ডায়াগনস্টিক তদন্ত কমিটিতেও ছিলেন তিনি।
একপর্যায়ে তাদের হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয় বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শাহিন মিয়া অভিযোগে বলেন, “আমি একজন আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষ। সরকারি হাসপাতালে স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে গিয়েও অপমানিত হতে হয়েছে। বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আমার নেই।”
এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এবিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মোছা. শামীমা আক্তার শিউলি’র বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।